
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা চলছে। পাম্পগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকে লম্বা সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যান। অনেকে চাহিদা মতো তেল পাননি।
এ হাহাকার অবস্থার মধ্যেই বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। গ্রাহকরা যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না নিতে পারেন সেজন্য বিভিন্ন পাম্পে চালু করা হয়েছে ফুয়েল পাস।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ফুয়েল পাস চালুর পর পাম্পগুলোর সামনে তেল সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন কিছুটা কমেছে। কমেছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে তেল সংগ্রহের চিত্রও। তবে যাদের ‘ফুয়েল পাস’ নেই তারা তেল কম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ও মেঘনা ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং তেল নিতে অপেক্ষারত যানবাহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে সবশেষ চিত্র জানা যায়।
সরেজমিনে পাম্প দুটির সামনে তেল নিতে আসা যানবাহনের লাইনে সাধারণ মানুষদের অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে।
টঙ্গী থেকে বাইকের জন্য ট্রাস্ট পাম্পে তেল নিতে এসেছেন জহিরুল ইসলাম বিপ্লব। তেল সংগ্রহ শেষে রওনা দেবেন কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, গাজীপুরে দুটি পাম্প ঘুরেছি। তেল পাইনি। এখন বাইক নিয়ে কুয়াকাটা যাবো। তেল পেলেই বাইক টান দেবো। যদি তেল না পাই তাহলে বড় বিপদ হয়ে যাবে।
তেল নিতে ভোগান্তি কিছুটা কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসার সময় আরও দু-তিনটি পাম্প পেয়েছিলাম। সেখানে লাইনও কিছুটা কম ছিল। কিন্তু সেখান থেকে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়াইনি। কারণ, যদি লাইনে দাড়িয়েও তেল না পাই তবে আর কুয়াকাটা যাওয়া হবে না। তাই ট্রাস্টের লাইন বড় হলেও এখানে চলে এসেছি।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে তেল নিতে আসা হাসান নামের একজন এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কথা হলে তিনি বলেন, তেল সংকটের পর থেকে আমি একদিন মাত্র রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়েছি। সেদিন আমার সময় লেগেছিল আট ঘণ্টা। সারা রাত লাইনে ছিলাম। তারপর থেকে আর তেল কিনিনি। আজ আশা করি ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তেল নিতে পারবো।
ফুয়েল পাসে তেল সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুয়েল পাস থাকলে ২০০ টাকার তেল বেশি দিচ্ছে। আর না থাকলে ২০০ টাকার তেল কম দিচ্ছে। যাদের ফুয়েল পাস নেই তারা অন্যদের চেয়ে ২০০ টাকার তেল কম পাচ্ছেন।
মেঘনা তেল পাম্পে অপেক্ষারত মিজান নামের একজন বলেন, আনুমানিক দুই ঘণ্টা আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। তেল পেতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি ও ফুয়েল পাস চালুর পর লাইনে কিছুটা চাপ কমেছে। আমাদের ভোগান্তিও কিছুটা কমেছে। তবে এখনো বিভিন্ন পাম্প বন্ধ। সেসব পাম্প খুলে দিলে ভোগান্তি আরও কমবে।
গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ওইদিন মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।
এর আগে সবশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমানো হয়েছিল। সেই দাম মার্চেও বহাল থাকে। এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনও আগের দামে তেল বিক্রি হয়।
এর আগে সবশেষ ৭ এপ্রিল বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়। বিইআরসি ঘোষিত দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা করা হয়েছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত) নির্ধারণ করা হয়।



































