
ইয়ার রহমান আনান,কক্সবাজার
▫️গত কয়েক বছরে প্রায়ই ২০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
▫️শুটকি ব্যবসায়ী শামসুল আলম'সহ সিন্ডিকেটে আরও ৪ জনের তালিকার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।
▫️আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমানের একনিষ্ঠ আস্থাভাজন ও প্রতাপশালী হিসেবে খুবই সক্রিয় ছিল।
▫️মাদকের একটি লভ্যাংশ যুবলীগ নেতা মোনাফ সিকদার ও মেয়র মাহবুকে দিত।
(পর্ব ১)
,, কক্সবাজারের বড় বাজার কাঁচা বাজার এলাকায় ছোট্ট এক পানের দোকানী। নাম তার রহিমুল্লাহ। পিতা,মৃত নুর হোসেন। বসবাস করেন একই এলাকার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড পেশকারপাড়া এলাকায়। দীর্ঘ বছর ধরে ছোট্ট একটি পানের দোকান করে কোন রকম সংসারের হাল ধরেছিল এই রহিমুল্লাহ। কিন্তু হঠাৎ তার জীবনে গত কয়েক বছর ধরে আমূল পরিবর্তন ঘটে ইয়াবার ছোঁয়ায়। এ যেন আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার সামিল। পানের দোকান থেকে হঠাৎ ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান এই মাদক মাফিয়া। নিয়মিত ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি হাতিয়ে নেন স্থানীয় মাছ বাজারের নেতৃত্ব। তিনি বর্তমান বড়বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ক্যাডার হিসেবেও খুবই পরিচিত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র মাহবুবের অন্যতম আস্থাভাজন ছিল এই মাদক সম্রাট রহিমুল্লাহ। তিনি গত কয়েক বছর ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের তেমন কোন নজরে আসেনি। মেয়র মাহবুবুর রহমানের দাপটে এলাকায় সর্বোচ্চ প্রতাপশালী রাজা হিসেবে আখ্যা দিতেন। ইয়াবার লভ্যাংশের একটি ভাগ যুবলীগের অন্যতম ক্যাডার মোনাফ সিকদার ও মেয়র মাহবুকে দিত প্রতি মাসে। এখান থেকে একচেটিয়াভাবে ব্যবসা করেন রহিমুল্লাহ। রহিমুল্লাহর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট দুতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, বড়বাজারে বেশকয়েকটি মুরগির দোকান। পৌরসভার পেশকারপাড়া এলাকায় প্রায়ই কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। যা পিলে মচকানোর মতো অবস্থা।
সুত্র বলছে, রহিমুল্লাহ একসময় ছোট পানের দোকান করলেও এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। নিয়মিত ইয়াবা সাপ্লাই দেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বড় বাজার শুটকি ব্যবসায়ী শাহআলমসহ শুটকির গাড়াী করে জোগান বানিয়ে ইয়াবার চালন পাঠাই কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা,গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। পাশাপাশি কাঁচা মাছের বিভিন্ন ড্রাম ভরেও কৌশলে ইয়াব সাপ্লাই দেন নব্য এই মাদক সম্রাট রহিমুল্লাহ। রহিমুল্লাহর আপন বোনের জামাই একজন কটেজ ব্যবসায়ী। যেখানে নিয়মিত নারী ও ইয়াবা সরবরাহ করা হয়। বোনের জামাইয়ের হাত ধরেই ইয়াবা ব্যবসায় যোগ দেন রহিমুল্লাহ। এরপর থেকেই আর থেমে থাকেনি তারা। রহিমুল্লাহ আপাদমস্তক একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী হলেও সমাজে নিজেকে দানবীর বলে ঘুরে বেড়ান। তবে তার এসব অপকর্মে বিস্তর বিশ্লেষণে উঠে আসে জীবনের নানা কল্পকাহিনি। হঠাৎ পানের দোকান থেকে কীভাবে এতো টাকা ও এতো সম্পদের মালিক এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও কৌতুহল জাগে। পরনের পোশাক আর চালচলনে এসেছে চাকচিক্য। তবে ইয়াবা ব্যবসা করলেও এখনোও রয়েছে প্রশাসনের আড়ালে।
জানা যায় যে, রহিমুল্লাহর নেতৃত্বে বর্তমানে শুটকি ব্যবসায়ী শামসুল আলম ও তার বোনের জামাইর নেতৃত্বে সপ্তাহে ৩বার ইয়াবার চালান পাঠানো হয়। পরে এদের তিনজনের মধ্যে এসব টাকা ভাগবাটোয়ারা করেন। এইভাবেই মিলেমিশে ইয়াবা বিক্রি করে বনে যান কোটিপতি। এলাকায় এসব লোকেমূখে শুনলেও কার বিষয় কে নজর দেয় বলে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়না এলাকাবাসী। তবে মাদকের এমন আগ্রাসনকে দমিয়ে না আনলে সমাজে ভয়াবহ আকার ধারণ করব বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
এবিষয়ে স্থানীয় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ও কাঁচা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, একসময় রহিমুল্লাহ আমাদের সামনেই ছোট্ট একটি পানের দোকান করত। তেমন একটা ভাবসাব ছিলনা৷ সারাদিন দোকান করে হাজার পাঁচশ টাকা দিয়েই ঘর সংসার চালাত। হঠাৎ তার মধ্যে একটি পরিবর্তন দেখতে পেয়ে আমরাও হতবাক। তার নাকি এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদ হয়েছে। শুনেছি এরা তিন-চারজন মিলেমিশে ইয়াবা ব্যবসা করে এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করে। তবে প্রশাসন কখনও ধরতে পারিনি। এদিকে এসব বিষয়ে অতিসহজে কেউ মুখ খুলতে রাজি না হলেও স্থানীয় বেশ কয়জনের নাম গোপন করে জানা যায় যে, রহিমুল্লাহ আমাদের সামনেই হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। আমরা তার চালচলনের পরিবর্তন বুঝতে পারলেও কেউ কিছু বলিনি বা জিজ্ঞেসও করিনি। কারণ সে একসময় এলাকার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমানের দাপটে চলত। পাশাপাশি নিজেকে সর্বোচ্চ প্রতাপশালী হিসেবে পরিচয় দিত। তাই নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে কেউ কথা বলতামনা। তবে প্রশাসন একটু নজর দিলেই তার এমন আয়ের উৎস কী তা বের করে আনতে পারবে বলে মনে করি। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদারকি করে আয়ের উৎস এবং এতো সম্পদের উৎস কী বের করে আনা প্রয়োজন বলে মনে করি।
এদিকে তার বিষয়ে বক্তব্য নিতে কল করা হলে তিনি বলেন,আপনি কী আমার বায়োডাটা নিচ্ছেন,আমার মাছ ব্যবসা রয়েছে, আরও অনেক ব্যবসা রয়েছে। আর আপনি সামনাসামনি আসেন আমি আপনাকে আমার বায়োডাটা দিব। এই বলে তার মুঠোফোন কেটে দেন।





























