
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর মোহনপুরে কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতির ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রাজশাহী জেলা ও মহানগর সিআইডির পুলিশ সুপার এএএম হুমায়ুন কবীর।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন,সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার মৃত মফজেল শেখের ছেলে সাজেদুল শেখ (৩৫) ও শাহজাদপুর থানার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. রুবেল (১৯)। গত ৭ আগস্ট গভীর রাতে মোহনপুরের দেশ কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
সিআইডি জানায়, হিমাগারে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষী ও শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে হিমাগারের পাওয়ার হাউসের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ডাকাতেরা নিয়ে যায়। এসময় ডাকতেরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অফিস কক্ষ ও আলমারি ভাঙচুর করে নগদ ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৬৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। পরে এ সংক্রান্তে মোহনপুর থানায় মামলা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জন ডাকাত দল রামদা, শাবল, হাঁসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজশাহীর মোহনপুর থানাধীন বামশিমইল ইউনিয়নের অন্তর্গত গাঙ্গোপাড়া গ্রামস্থ দেশ ‘কোল্ড স্টোরেজ (প্রা.) লি.’ প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেটের তালা ভেঙে প্রবেশ করে। প্রধান গেটে থাকা ২ জন নিরাপত্তা প্রহরীর হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাদেরকে গার্ড রুমের পার্শ্বে মোটরসাইকেল গ্যারেজে ফেলে রেখে ট্রাক নিয়ে কোল্ড স্টোরেজের ভিতরে প্রবেশ করে। ডাকাত দল প্রতিষ্ঠানের লেবার কোয়ার্টারে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ১৮ লেবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রত্যেকের হাত-পা ও চোখ বেঁধে দরজা আটকে লেবার সর্দারের রুমের তালা কেটে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা অফিস রুমের তালা ভেঙে প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে সিআইডি রাজশাহী মেট্রো ও জেলার কর্মকর্তারা মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেন। তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে সিআইডি রাজশাহী মেট্রো ও জেলার একটি বিশেষ টিম ঢাকা জেলার আশুলিয়া ও গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
রাজশাহী জেলা ও মহানগর সিআইডির পুলিশ সুপার এএএম হুমায়ুন কবীর জানান, ডাকাতদ্বয়ের নিকট হতে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে Lucas কোম্পানির ২০০ অ্যাম্পিয়ার একটি ব্যাটারি, বড় স্লাই রেঞ্জ ৩টি, হাতলযুক্ত লোহার হাতুড়ি একটি, গুটি রেঞ্জ ৩টি, ডাল রেঞ্জ ২টি, প্লাস টি, ক্রু-ড্রাইভার একটি, নাট-বোল্ট খোলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের রেঞ্জ ১৭টি এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামি শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী জেলা ও মহানগর সিআইডির পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন এবং উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ মোহন সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





























