
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
সাঁকো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে সরকারি জায়গার গাছের কাঠ এমন অভিযোগের মধ্যেই সামনে এসেছে প্রায় দুই লাখ টাকার বিলের প্রশ্ন। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা-টু-বাটি সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় থাকা চার থেকে পাঁচটি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলোর মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা। এসব কাঠ জলাবদ্ধ এলাকায় একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয়দের প্রশ্ন—গাছের কাঠ যদি সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সাঁকো নির্মাণের জন্য আবার প্রায় দুই লাখ টাকার বিল কেন?
বিষয়টি নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অবগত ছিল না। ঘটনাটি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা দেখতে পান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, গাছ কাটার কোনো সরকারি চিঠি, ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন বা অনুমোদন তাঁর কাছে নেই।
অন্যদিকে ইউপি সদস্য একরাম হোসেন দাবি করেন, জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ হচ্ছিল। ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেন। সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তিনি কাজের শেষ দিকে একটি ছোট গাছ কাটার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় এখন তিনটি বিষয় সামনে এসেছে—গাছ কাটার অনুমোদন ছিল কি না, সাঁকোতে ব্যবহৃত কাঠের প্রকৃত উৎস কী এবং প্রায় দুই লাখ টাকার বিল কোন কাজের বিপরীতে চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তবে সরকারি সম্পদ ও অর্থের হিসাব স্বচ্ছ করতে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীরের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।





























