
শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুরের চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বসতঘরে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে ওই ঘরে শায়িত রহিমা বেগম (৫৫) নামে এক মহিলাকে মাথায় কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে।
শনিবার (১০ আগষ্ট) গভীর রাতে ৩ টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ধোপাঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রহিমা বেগম ওই জমি ও বসতঘরের মালিক শফিকুল ইসলামের মা এবং ইয়ানুছ আলীর স্ত্রী।
এঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে ভূক্তভোগীর স্বামী।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকার মো: ইয়ানুছ আলীর সাথে একই এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে হাবিবুর রহমানের বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার দিবাগত রাতে হাবিবুর ও সহিদুর ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে শাবানা, মাহতাবা সাথী, উকিল, শামিমা, রহিম সহ কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাতের আধারে জমি দখল করতে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের উপর হামলা চালায় ও তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করে।পরে তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
সে সময় তারা রহিমা বেগমের বড় ছেলে শফিকুল ইসলামের ক্রয়কৃত দলীলীয় জমিতে থাকা একচালা বসতঘরে হামলা চালিয়ে তা ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় তারা রহিমা বেগমের শরীরে থাকা ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন সহ অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এবং ওই জমিতে থাকা প্রায় ১২০ টি বনজ ও ফলজ বৃক্ষ কেটে সাবাড় করে দেয়।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের স্বামী ইয়ানুছ আলী বলেন, হাবিবুর ও সহিদুর দুই ভাই মিলে গভীর রাতে আমার স্ত্রীকে হত্যা করার জন্য মাথায় কুপিয়ে বেহুশ করে তাকে ভ্যান গাড়ি করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। আর ঘরে যা ছিলো সব লুট করে নিয়ে যায়। আদালতে জমি নিয়ে মামলা চলমান। আমরা আদালতের রায় মেনে নিব। কিন্তু রাতের আধারে এমন হামলা কেনো। আমরা জমি কিনে নিয়েছি। ওরা জোর করে জমি দখল করতে চায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই "
জমির মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, সহিদুর, হাবিবুর মিলে আমার মাকে মেরে ফেলার জন্যই এমন হামলা করেছে। আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত সহিদুর রহমান শাহিন এর সাথে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ০১৭৪৯৪৬৯৪৭৫ নাম্বারে কলে দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























