
দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পর ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মখলেসুর রহমান ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসেবা এবং সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক আচরণের জন্য তিনি ডুয়েট পরিবারের কাছে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। অধ্যাপক ড. মখলেসুর রহমান ১৯৯৩ সালের ২ মে ডুয়েটে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৮ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১০ সালের ডিসেম্বরে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। অবসর গ্রহণ পর্যন্ত তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ এলাকার কালাম হাই স্কুল থেকে। ১৯৭৬ সালে তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর প্রায় নয় বছরের শিক্ষাবিরতির পর ১৯৮৫ সালে কালাম ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১৯৯২ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ২০০০ সালে সিভিল ও জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ২০০৮ সালে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল জিওটেকনিক্যাল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) জন্য সার্ভেয়িং ও নির্মাণ-সংক্রান্ত একাধিক পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় রচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডও সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে সমানভাবে প্রশংসিত। নিজ এলাকার অসংখ্য মসজিদ ও মাদ্রাসায় নিয়মিত দান-অনুদান প্রদান করেছেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। সমাজের প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতা তাঁকে একজন শিক্ষকের গণ্ডি ছাড়িয়ে একজন জনহিতৈষী মানুষ হিসেবে পরিচিত করেছে। ডুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কাছে অধ্যাপক ড. মখলেসুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, হাস্যোজ্জ্বল ও সহজ-সরল একজন মানুষ। অধ্যাপক হওয়ার পরও তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতেন। তাঁর এই ব্যক্তিত্ব তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে প্রিয় করে তুলেছিল। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তিনি ডুয়েটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছিলেন। আবার দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তি উপলক্ষে ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রায় ৯০০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, উদারতা ও সৌহার্দ্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পেশাগতভাবে তিনি দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (IEB)-এর ফেলো। এছাড়া বাংলাদেশ সোসাইটি ফর জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (BSGE) এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর সয়েল মেকানিক্স অ্যান্ড জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ISSMGE)-এর সদস্য হিসেবে দেশের প্রকৌশল ও গবেষণা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য প্রকৌশলী গড়ে তোলা, গবেষণায় অবদান রাখা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব প্রদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. মখলেসুর রহমান ডুয়েটে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছেন। শিক্ষা, মানবিকতা ও পেশাগত নিষ্ঠার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর কর্মজীবন আগামী প্রজন্মের শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর অবসর-পরবর্তী জীবন সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণে ভরে উঠুক এমন প্রত্যাশা সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের।





























