
স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর রহমানসহ একধিক বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ স’মিল, কয়লার চুল্লি, বন বিভাগের জায়গায় অবৈধ বিল্ডিং স্থাপনা, কলা বাগান এবং গজারি গাছ কাটাসহ বনের জমি অবৈধ ভাবে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি গায়রা বেতিল এলাকার মোঃ শাহাজউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বাঁশতৈল রেঞ্জ এরিয়ায় ব্যাপক দূনীর্তি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর বাঁশতৈল রেঞ্জ বন বিভাগের মোট জমির পরিমান ১৪ হাজার ৩৭৪.৬ একর। বাঁশতৈল রেঞ্জ এর আওতায় নলুয়া, পাথারঘাটা, হাটুভাঙ্গা, বংশি নগর, হতেয়া, কুড়িপাড়া এই ৬টি বিট অফিস রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ ভাবে দখল রয়েছে ৬ হাজার ৩৯৪.১০ একর জমি।
বাঁশতৈল রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ চল্লিশ টি স’মিলের প্রায় সবগুলোতে গজারি কাঠ চিড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কুড়ি পাড়ায় ৮টি, হাটুভাঙ্গায় ৪টি ও নলুয়ায় ৪টি কয়লার চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে।
খেঁাজ নিয়ে জানা যায়, হাটুভাঙ্গা চেকপোষ্টের উত্তর পাশে^র্ বন বিভাগের ২ হাজার ১০০.৬ একর জমি রয়েছে (দাগ নং—৬৬৩)। রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর রহমান ও নলুয়া বিট কর্মকর্তা মোঃ শামিমের সহযোগিতায় প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা দখল করে ব্যাগস এন্ড প্যাকস নামের প্লাস্টিক বস্তা তৈরির একটি ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে।
বাঁশতৈল নয়াপাড়া বনের জমি দখল করে মোঃ ইছহাক মিয়া বিল্ডিং তৈরি করেছে এবং কাটা মারা গ্রামের উত্তর পাড়ায় নাজিম উদ্দিন টিনসেড বিল্ডিং নির্মান করেছে। এছাড়াও সংরক্ষিত বন উজার করে গায়রা বেতিল মৌজার গোসাই মার্কেট এলাকায় সংরক্ষিত বড় বড় গজারি গাছ কেটে বন উজার করেছে স্থানীয় শমসের মাস্টার নামের এক ব্যক্তি। বালিয়াজান এলাকায় বন বিভাগের ৮টি আকাশ মনি গাছ কেটে নিয়েছে কাশেম নামের আরেক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ দখল উচ্ছেদের কোন প্রকার ব্যবস্থা বন বিভাগ কতৃর্পক্ষ নেয় নি।
নলুয়া বিট অফিসের ১ কি.মি. পশ্চিমে বন বিভাগের জমিতে মার্কেট নির্মান করা হয়েছে। এখানে নতুন করে দোকান তৈরি করছেন হুমায়ন সিকদার নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, এই বাজারে দোকানঘর রয়েছে মোট ৮৫টি। এর পসবগুলোই বন বিভাগের জমিতে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ভিটি নিতে হলে বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয় এবং কি আমাকে ২ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে এর মধ্যেই ঘর তোলার কাজ শেষ করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স’মিল মালিক ও কয়লার চুল্লির মালিক বলেন আমরা রীতিমত রেঞ্জ ও বিট অফিসের ঘুষ দিয়ে স’মিল পরিচালনা করে থাকি। রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তারা চালাতে বললে চালাই আর বন্ধ করতে বললে বন্ধ করি। এতে আমাদের স’মিলগুলো প্রতি মাসে প্রায় থেকে ২ লক্ষ করে টাকা দিয়ে থাকি।
অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কাজ করি বিধায় আমার প্রতি একটি মহল অপ—প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বনকর্মকর্তা ডা. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন এই বিষয়ে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ অনুযায়ী আমি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছি।





























