
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো কলেজ স্থাপনের ঘোষণা এসেছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ভোলাব গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কলেজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহায়তায় দীর্ঘদিনের এ দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোলাব ইউনিয়ন রূপগঞ্জের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত একটি কৃষিনির্ভর জনপদ। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। ইউনিয়নটিতে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থাকলেও এতদিন কোনো কলেজ ছিল না। ফলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নরসিংদী কিংবা কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকার কলেজে যেতে হতো।
গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামান মিয়া বলেন, “ভোলাববাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এখানেই কলেজ হবে। নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু হলো।”
উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সামনে কলেজ ঘোষণার সময় ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, “ভোলাবে চারটি উচ্চ বিদ্যালয় থাকলেও কলেজ ছিল না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা-সংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি হবে পরিবর্তনের সূচনা।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভোলাব ইউনিয়নে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”
সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী তানজীলা আক্তার বলেন, “কলেজে কোথায় ভর্তি হবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন নিজ এলাকায়ই পড়ার সুযোগ পাবো, এটা অনেক স্বস্তির।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন রেদওয়ান মিয়া, যিনি তিন বছর আগে এসএসসি পাস করে দূরের কলেজে পড়াশোনা করেছেন। “ঘোড়াশাল কলেজে যেতাম কষ্ট করে। বৃষ্টি হলে গাড়ি পাওয়া যেত না, ভাড়াও বেশি লাগত। পরিবারে চাপ পড়ে যেত,” বলেন তিনি।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী রোকসানা আক্তারের মা রাহেলা বেগম বলেন, “আমার মেয়ে আগে নরসিংদীতে পড়ত। অনেক চিন্তায় থাকতাম। এখন ছোট ছেলে পাশ করছে, তাকেও এই কলেজেই দেব।”
একইভাবে, স্থানীয় বাসিন্দা রজ্জব আলী বলেন, “আগে মেট্রিকের পর অনেকে আর পড়াশোনা করত না। এখন কলেজ হলে ওরা এলাকায় থেকেই পড়তে পারবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি ভোলাবের নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দরজা। শিক্ষা বিস্তারে এই উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিত সহায়তা ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন শিক্ষানুরাগীরা।





























