
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের উত্তরধানঘড়া গ্রামের মৃত আফছারুর রহমানের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান, যিনি একসময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, তাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ছুটিতে এলাকায় আসার পর তিনি পরবর্তীতে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত। তবে সময়ের ব্যবধানে মিজানুর রহমান ও একই ধরনের অতীতের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন ব্যক্তি এখন সেই পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তারা বর্তমানে বিভিন্ন সৎ পেশায় যুক্ত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। তবে পুরোনো মাদক মামলার কারণে তারা এখনও সামাজিক ও প্রশাসনিক নানা জটিলতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ, যুবসমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় তারা প্রশাসনের কাছে মামলা পুনর্বিবেচনা এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই বিষয়ে মিজানুর বলেন, আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি। পরে ভুল পথে জড়িয়ে পড়েছিলাম, এখন সেই ভুল থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসেছি। আমি এখন সৎভাবে জীবনযাপন করছি। পুরোনো মামলার কারণে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। প্রশাসন যদি মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখে, তাহলে আমরা সমাজের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারবো।” স্থানীয় শিক্ষক ফরহাদ বলেন, “যারা সত্যিকার অর্থে ভুল থেকে ফিরে এসেছে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে তারা আবারও অপরাধের পথে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।” স্থানীয় যুব প্রতিনিধিরা বলেন, “আমরা চাই যারা পরিবর্তন হয়েছে তারা সমাজের মূলধারায় থাকুক। পুনর্বাসনের সুযোগ দিলে মাদকবিরোধী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।” ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার বলেন, “আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখেছি। তারা এখন সৎ পেশায় যুক্ত। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হোক।” গাইবান্ধা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকলেও, যারা সত্যিকার অর্থে সংশোধিত হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে সবকিছুই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আইন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে সংশোধিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন যেমন সম্ভব হবে, তেমনি সমাজেও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


























