
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ওওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে চাল উত্তোলন ও ছাড়পত্র নিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কালিগঞ্জ উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক তৈয়বুর রহমান ও শ্যামনগর উপজেলার শাহাজান হোসেনের বিরুদ্ধে ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল উত্তোলনের সময় প্রত্যেক ডিলারের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। টাকা না দিলে ছাড়পত্রের কাগজে স্বাক্ষর করেননা দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ডিলার।
কালিগঞ্জ উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার রয়েছেন প্রায় ৪০ জন। অন্যদিকে শ্যামনগরে রয়েছেন প্রায় ৬৩ জন। দুই উপজেলার প্রায় ১০৩ ডিলারের কাছ থেকে প্রতি মাসে আদায় করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
ডিলারদের অভিযোগ, অফিস সহায়ক তৈয়বুর রহমান ও শাহাজান হোসেনের মাধ্যমে এসব টাকা আদায় করা হয়। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ওই অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের কয়েকজন ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি মাসে চাল উত্তোলনের সময় নির্ধারিত অর্থের বাইরে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ছাড়পত্র, স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কাজে হয়রানির শিকার হতে হয়।
তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে ডিলারশিপ বাতিল বা নানা ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অনেক ডিলার অভিযোগ থাকলেও মুখ খুলতে চান
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নজরে আসে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ওমর ফারুক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটির সদস্য হিসেবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এ.এস.এম মাহফুজ আলম এবং আশাশুনি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার রায় গত বুধবার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এ.এস.এম মাহফুজ আলম বলেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে গত বুধবার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অতিদ্রুত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হবে।
শ্যামনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহাজান হোসেন ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক তৈয়বুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
‘কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহাদি হাসান অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, জনৈক একজন সাংবাদিককে অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এছাড়া আফিস সহায়করা তার নাম ভাঙিয়ে টাকা নেন বিষয়টি তিনি অবগতনন।
অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় এখন তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে আসে এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ডিলাররা।





























