
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ১ নম্বর পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে এবং পরবর্তীতে তার গর্ভপাত হয়েছে এমন অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিং নু মারমা, ঞোচিং অংয়ের ছেলে উহাইমং মারমা, মংচ মারমার ছেলে সিংহ্লা মারমা এবং মৃত মংচহ্লা মারমার ছেলে উশৈনু মারমা। তারা রুমা উপজেলার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিং নু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। এরপরের দিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উশৈনু মারমা এক সন্তানের বাবা।
কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা ট্যাবলেট দেন।
ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ পায়। পরে তার মা-বাবা তাকে চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবানে পাঠানো হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার সময় তার গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে দাবি তাদের। পাড়াবাসীর কাছ থেকেও তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,রোববার সকালে একজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে আরও তিনজন রুমা থানায় উপস্থিত হলে তাদেরও আটক করা হয়। পরে চারজনকে থানাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক চারজনই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা, ঘটনার সময়কাল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের বান্দরবান আদালতে পাঠানো হবে।




























