
বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জলদি আধুনিক হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ইনজেকশন প্রয়োগের পর এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ বড় বোনের জন্য নির্ধারিত চারটি ইনজেকশন ভুলক্রমে সুস্থ ছোট বোনের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী পৌরসভার জলদি এলাকায় অবস্থিত ওই হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শেখেরখীল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা জেলে মোজাম্মেল হক তাঁর অসুস্থ দ্বিতীয় কন্যাসন্তানকে নিয়ে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে হাসপাতালে আসেন। এ সময় শিশুটির মা তাঁর ছোট মেয়েকেও হালকা জ্বরের কারণে চিকিৎসকের কাছে দেখান।
পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ বড় মেয়ের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক চারটি ইনজেকশন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মীর ভুলে ওই ইনজেকশনগুলো ছোট মেয়ের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। তাঁদের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার আগে শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ইনজেকশন প্রয়োগের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে অসুস্থ বড় মেয়েটিকে পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি। এ ঘটনায় তাঁরা বাঁশখালী থানায় অভিযোগ জানাতে যান। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোয়াইবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দুটি শিশুই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আসে। হয়তো তারা গ্রামে পল্লী চিকিৎসকের কাছেও চিকিৎসা নিয়েছে। পরে অভিভাবকদের অনুরোধে তাদের ভর্তি করা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই একটি শিশুর মৃত্যু হয়। অন্য শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। হাসপাতালে নার্সের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা ও ইনজেকশন প্রয়োগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে বলেন, রোগীর স্বজন ও সাংবাদিকরা একসঙ্গে হাসপাতালে উপস্থিত হলে বিষয়টি জানাবেন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনার পরপরই আমাদের একটি দল ওই বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসংক্রান্ত আলামত সংরক্ষণ করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠিয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দলও হাসপাতাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসংক্রান্ত আলামত সংরক্ষণ করেছে। হাসপাতালের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এ ছাড়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে শিশুটিকে কী ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, চিকিৎসকের নির্দেশনা কী ছিল, ইনজেকশন প্রয়োগকারী ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা কী এবং ইনজেকশন প্রয়োগের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




























