
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ে চাকুরীবিধিমালা উপেক্ষা করে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ৩০ জুন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা চত্বরে। এতে ওই উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী অংশ নেন। জানা গেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু শাহীনের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে টাকা ফেরতের দাবি করেন রেহানা বেগম উর্মি নামে এক নারী। ঘটনার পরদিনই ইউএনওর পক্ষে নীতিমালা ভঙ্গ করে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিধিমালা বিশ্লেসনে দেখা যায় সরকারী কর্মচারী আচরন বিধিমালা ১৯৭৯ এবং সরকারি চাকুরী আইন ২০১৮ এর অধীনে সরকারি কোন কর্মকর্তা কর্মচারী সরাসরি মানববন্ধনে অংশ নেন তাহলে বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা সহ বরখাস্ত হতে পারে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এর আগে, সোমবার ফেসবুক লাইভে ইউএনওকে তোপের মুখে ফেলেন রেহানা বেগম উর্মি নামের ওই নারী। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ইউএনও তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চান। সম্প্রতি ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে সোমবার (২৯ জুন) ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ফেসবুক লাইভে এসে প্রকাশ্যে টাকা ফেরতের দাবি জানান এবং পরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চাইছেন। জবাবে ইউএনও বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং পুরো ঘটনাটি সাজানো নাটক। এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই নারীকে আমি চিনি না, তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা বা কথা হয়নি। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।এদিকে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।মানববন্ধনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার নবীউল কারিম সরকার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হয়ে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দেন।জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন তারা এই কর্মসূচী পালন করলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইবো। ব্যাবস্থা নেওয়ার কথাও জানান জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন।




























