
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাছানদন্ডী নাসির মাস্টারের বাড়িতে গৃহবধুর মিনহাজ খাতুন (২৪)'র রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামী সেনিটারি মিস্ত্রী জাহেদুল ইসলাম (৩৫)'র দাবি মিনহাজ খাতুন শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যায় অপরদিকে মিনহাজের পিতা আবুল ফজলের দাবি তার মেয়েকে হত্যা করে হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীররাতে মিনহাজের স্বামী হাছানদন্ডীর খাইরুল বশরের ছেলে। জাহেদুল ইসলাম তার শালী হাফসা খানমকে রাত দেড়টার সময় মোবাইলে জানায়, তার বোন মিনহাজ নাকে-মুখে ফেনা এসে বাথরুমের পাশে মরা যায়। বিষয়টি তিনি তার পিতা লোহাগাড়া পদুয়া এলাকার আবুল ফজলকে জানালে তিনি মিনহাজের স্বামী জাহেদুলকে টেলিফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হন। খবর পেয়ে তিনি ছেলে ইমাম হোসেন, মেয়ে হাফসা খানম, মামা সৈয়দ আহমদ, তার স্ত্রীকে নিয়ে রাত ৩টার সময় ফজলের বাড়িতে আসেন। মেয়ে মিনহাজকে তার কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। আবুল ফজল আরো বলেছেন, তার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ৬ বছর পূর্বে তাদের ঘরে ৩ বছরের সানাম, ১৯ মাসের সায়েম জন্ম নেয়। ইতিমধ্যে ফজল অন্য একটি মেয়ের সাথে সম্পর্কের কারণে ঘটনার দিন কথা কাটাকাটি হলে তারা মিনহাজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বলে দাবি করেন। মিনহাজের খালার জামাই সৈয়দ আহমদ বলেছেন, মিনহাজের স্বামী শ্বাশুরিসহ ৩/৪ মিলে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এ ব্যাপারে তার নিকট ভিডিও চিত্র রয়েছে বলে জানান। এদিকে ফজলের মা বলেছেন, ঐসময় ডা. কৃষ্ণকে ডাকতে গেলে তিনি আসে নাই হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। তার পুত্রবধূ সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যায়।
দোহাজারীর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল আলম বলেছেন, সবার আগে বিচার চাইবে ভিকটিমের পরিবার। তদন্ত কেন্দ্রে মহিলা পুলিশ না থাকায় ভিকটিমের মা-বোনদেরকে দিয়ে তার শরীর পরীক্ষা করা হয়। তারা শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই বলে জানান তারা আরো বলেন, তাদের মেয়ের ছোটকাল থেকে এজমা রোগ ছিল, নেভুলাইজার ব্যবহার করতো। ভিকটিমের স্বামী জাহেদুল ইসলামকে পুলিশি নজরে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে।
এই ব্যাপারে এ.এসপি সার্কেল ও থানা অফিসার ইনচার্জ এসে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান এদিকে ভিকটিমের পিতা আবুল ফজল মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন রকমের চলছে গুনজন। ভিকটিমের পরিবার অর্থবিত্তশালী না হওয়ায় একটি মহল বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।




























