
কামাল উদ্দিন ভূইয়া, বিশেষ প্রতিনিধি,
দিন যত যাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে ততই ভালোবাসার স্থান করে নিচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পপতি আল মুজাহিদ মল্লিক। তিনি সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির ১ নং সহ-সভাপতি এবং আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এই নেতার নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ড এখন সোনারগাঁওয়ে জনগণের মুখে মুখে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এলাকায় ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন "মানবতার ফেরিওয়ালা" ও "গরিবের বন্ধু" হিসেবে। হাজার হাজার মানুষের উপকার করা এই পরোপকারী ব্যাক্তি আল মুজাহিদ মল্লিক । তাহার পরোপকারী কথা বলে শেষ করা যাবেনা। আল মুজাহিদ মল্লিকের জীবনে ২০১২ সালের একটি ঘটনা, সে বছর তিনি সপরিবারে প্রথম পবিত্র হজ্ব পালন শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে এসে তিনি জানতে পারেন, বিমানের সময়সূচির চরম বিপর্যয়ের কারণে শত শত সাধারণ হাজী আটকে পড়েছেন। বৃদ্ধ, অসুস্থ ও ক্লান্ত যাত্রীরা যখন চরম ভোগান্তিতে দিশেহারা, সময় যাচ্ছে, ঘন্টা যাচ্ছে, দিন যাচ্ছে তবুও হাজীরা আটকে পড়েছেন, কিন্তু এদের মধ্যে যারা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তারা বিমানে উঠে যাচ্ছিলেন। সাধারণ হাজীরা আটকে পরেছে। শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আল মুজাহিদ মল্লিক নিজেও তখন সহজেই বিমানে উঠে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখে তিনি নিজের আরাম বিসর্জন দেন। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসেন এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আটকে পড়া শত শত হাজীর খাবারের ব্যবস্থা করেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি নিজে বিমানবন্দরে অবস্থান করে দায়িত্ব নিয়ে পরপর তিনটি ফ্লাইটে সাধারণ হাজীদের আগে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। সবশেষে সবাইকে নিরাপদে বিদায় জানিয়ে তিনি নিজে সর্বশেষ ফ্লাইটে বাড়ি ফেরেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ সে সময় হাজীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আল মুজাহিদ মল্লিক এ পর্যন্ত চার শতাধিক অসহায় ও এতিম মেয়ের বিয়েতে সহায়তা করেছেন, অনেক মেয়ের বিয়েতে নিজস্ব অর্থায়নে বহন করে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করেছেন। আরেটি ঘটনা না বললেই নয়, জামপুর ইউনিয়নের বৈরাবটেক এলাকায় এক অসহায় এতিম ছেলের একটি মাদরাসা ও জমি নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় মহিউদ্দিন পেপার মিলের মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ছেলেটির জমিটি নামমাত্র মূল্যে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। অসহায় ছেলেটির এই বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ান আল মুজাহিদ মল্লিক। তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি মহিউদ্দিন সাহেবের সাথে আলোচনা করেন। অবশেষে ছেলেটির জমির ন্যায্য মূল্য বাবদ ৫৫ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করে দেন। শুধু তাই নয়,আল মুজাহিদ মল্লিক তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জায়গার রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করান এবং পুরো টাকাটি ওই অসহায় ছেলের হাতে তুলে দেন। এছাড়া আল মুজাহিদ মল্লিক বিভিন্ন মাদরাসায় তিনি প্রতি বছর নিয়মিত বড় অঙ্কের অনুদান দিয়ে আসছেন।
মহামারী করোনার কঠিন সময়ে যখন মানুষ ঘরবন্দী ও কর্মহীন হয়ে পড়েছিল, তখন আল মুজাহিদ মল্লিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি প্রায় ৫০টি গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। এলাকাবাসীর মতে, মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়ন থেকে শুরু করে যেকোনো অসুস্থ ও অসহায় মানুষ তাঁর কাছে এসে কখনো খালি হাতে ফেরেননি। হাজার হাজার সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ উপকার করে যাওয়া এই সমাজসেবক আগামী দিনে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদকে একটি আদর্শ ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় জনগণের।




























