
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চন্দিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত পাঠদান না করা, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কলেজ ছুটির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, অধিকাংশ দিনই শিক্ষকরা কলেজে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষের নিয়মিত পাঠদান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সরেজমিনে চন্দিয়া মহিলা কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটক বন্ধ। ক্যাম্পাসে কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলছিল না। স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো এক দিনের ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না। পরীক্ষার সময় পরীক্ষা নেওয়া ছাড়া শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পাঠদানের সুযোগ পাচ্ছে না।এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “মেয়েকে কলেজে পাঠাই পড়াশোনার জন্য। কিন্তু প্রায়ই শুনি কলেজ আগে ছুটি হয়ে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।” কলেজসংলগ্ন এক চা-দোকানদার পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শিক্ষকরা কখন ক্লাস নেন বলতে পারব না। তবে বেশির ভাগ সময় তাঁদের আমার দোকানেই চা-সিগারেট খেতে দেখি।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার মা ওমরা হজে যাচ্ছেন। তাঁকে ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে এসেছি। আমি প্রভাষক সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। বিষয়টি জানতে চাইলে সাইফুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”তবে প্রভাষক সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এলে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান ব্যাহত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। তাই দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




























