
সাআদ মাহমুদ, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে মোট ৯১৫টি মসজিদ রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বিভাগভিত্তিক ও উপজেলাভিত্তিক মসজিদ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমৃদ্ধ এ উপজেলায় বিপুল সংখ্যক মসজিদের উপস্থিতি ইসলামী শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় অনুশীলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, হালুয়াঘাট উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে ৯২.৩২ শতাংশ মুসলিম, অর্থাৎ উপজেলায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার ২২৯ জন। সেই হিসেবে হালুয়াঘাটে প্রতি ৩১৯ জন মুসলিমের জন্য একটি মসজিদ রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৩২ জন এবং মহিলা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯১১ জন। এছাড়া হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরও বসবাস রয়েছে, যা এ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে।
আয়তনে ৩৫৭.৬১ বর্গকিলোমিটার এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হালুয়াঘাটে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ২.৫৬টি মসজিদ রয়েছে। এছাড়া গড় হিসেবে প্রতি ইউনিয়নে ৭০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে, যা উপজেলার ধর্মীয় অবকাঠামোর বিস্তৃতি ও গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলায় মোট মসজিদের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৩৮টি। জেলার উপজেলাভিত্তিক মসজিদের সংখ্যা হলো— ফুলবাড়িয়ায় ১,৮৩০টি, ময়মনসিংহ সদরে ১,৫৮৩টি, মুক্তাগাছায় ১,৫০৭টি, ত্রিশালে ১,৪৫৩টি, ভালুকায় ১,৩৩৪টি, গফরগাঁওয়ে ১,২৯২টি, ফুলপুরে ১,১২৮টি, নান্দাইলে ১,১০৫টি, ঈশ্বরগঞ্জে ১,০৫৯টি, হালুয়াঘাটে ৯১৫টি, তারাকান্দায় ৮৯৫টি, গৌরীপুরে ৮৭০টি এবং ধোবাউড়ায় ৬৬৭টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে হালুয়াঘাট মসজিদের সংখ্যায় দশম অবস্থানে রয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসজিদ গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ বিভাগে মোট মসজিদের সংখ্যা ৩১ হাজার ২২২টি। চার জেলার মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় সর্বাধিক ১৬ হাজার ৬৩৮টি মসজিদ রয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনায় ৬,৩৭১টি, জামালপুরে ৫,৭৮৩টি এবং শেরপুরে ৩,২৬০টি মসজিদ রয়েছে।
বিভাগের মোট মসজিদের প্রায় ২.৯৩ শতাংশই হালুয়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত। এছাড়া দেশের মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি মসজিদের মধ্যে হালুয়াঘাটের ৯১৫টি মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলায় মসজিদগুলো শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে। উপজেলার অধিকাংশ মসজিদের সঙ্গে মক্তব, হিফজখানা কিংবা কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে শিশু-কিশোর ও সাধারণ মুসল্লিরা নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে স্থানীয়দের মতে, উপজেলার অধিকাংশ মসজিদে পুরুষ মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান খুবই সীমিত। বর্তমানে হালুয়াঘাট উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেই নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান ও প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে। অন্যান্য অধিকাংশ মসজিদে নারীদের জন্য স্থায়ী ও পৃথক নামাজের ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিপুল সংখ্যক মসজিদের উপস্থিতি হালুয়াঘাটে ধর্মীয় পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।





























