
আরাফাত আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জয়পত্রকাটি সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রমে সরকারি নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি খরচের বাইরে প্রতি মিউটেশনে ৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, জমি ক্রয়-বিক্রয় বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির নামজারির জন্য আবেদন করলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয় এবং দ্রুত কাজ সম্পন্নের আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী তাপস দাশ জানান, তার একটি জমির মিউটেশন করতে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ ৬ হাজার ৮০০ টাকা নিয়েছিলেন। বর্তমানে আরেকটি জমির মিউটেশনের জন্য গেলে তার কাছেও একই পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি খরচ প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকার মতো হলেও অতিরিক্ত টাকা না দিলে মিউটেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয় না।”
অপর ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার জমির কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে একটি মিউটেশনের জন্য তার কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আব্দুল হাকিম, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মুকুল ঘোষসহ কয়েকজন দালালের মাধ্যমে মিউটেশনসহ বিভিন্ন সেবার নামে নিয়মিত অর্থ লেনদেনের একটি প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছে। অনেক ভুক্তভোগীর দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে তাদের আবেদন দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। অন্যদিকে অর্থ প্রদানকারীদের কাজ তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
এ ধরনের অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, “সাধারণ মানুষ অনেক সময় সরাসরি অফিসে আসতে পারেন না। ফলে অনেকেই দালালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেন।”
মিউটেশনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন খাতে টাকা দিতে হয়।” এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়েও অর্থ দিতে হয়।
এবিষয়ে জানার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোঃ মাইনুল ইসলাম খানের মোবাইল ফোনে ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




























