
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন, যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন ও ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের পাশাপাশি বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক্সটার্নাল পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অসাধুভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তাদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রায়ই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচালক ও উপপরিচালকদের নাম ব্যবহার করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এর ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষককে বিভক্ত করে রাখা, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা এবং কিছু শিক্ষক-কর্মচারীকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নন-ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন সময় দীর্ঘ ছুটি ভোগ করে পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন, যা সরকারি চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে বিভিন্ন বিল-ভাউচার, ইনডেন্ট বইয়ের তথ্য, ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি কক্ষ, রান্নাঘর ও বাথরুমের আলোকচিত্রসহ নানা ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। কলেজের অর্থে গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা ও অন্যান্য রান্নার সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রায় ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচারও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব নথিপত্র যাচাই করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এ কারণে কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে কেউ যদি আমার বিরোধিতা করে, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”
এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিদর্শক ও আঞ্চলিক পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুসান্ত কুমার সাহা বলেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো লিখিতভাবে তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অধিদপ্তরের অন্যতম অগ্রাধিকার। অভিযোগগুলো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ জমা দেওয়া হলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নিশ্চিত করা হবে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




























