
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের টুটিয়ারচর এলাকায় এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের ও মামলা রেকর্ড হলেও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা ইয়াসমিন আক্তার জানান, তার মেয়ে তানহা আক্তার জেরিন (১৫) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১২ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।পরিবারের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাকিব (২৩) দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তানহাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের স্বজনদের অবহিত করে তাকে সতর্ক করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে এরপরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাদের।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে তানহাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তার বড় ভাই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে সিএনজিটির পিছু নিলেও বোনকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের নতুন জেলখানা মোড় এলাকায় অভিযুক্তের কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে তাদের কথা হয়। সে সময় তারা মেয়েটিকে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পরিবার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং মেয়েটিকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।পরবর্তীতে গত ১৮ মে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে বিষয়টি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন নিখোঁজ কিশোরীকে আত্মগোপনে রাখতে সহায়তা করছেন এবং তার অবস্থান গোপন রাখতে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।এদিকে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন পরিবার সদস্যরা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “আমার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, দ্রুত আমার মেয়েকে উদ্ধার করা হোক।”এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত ও তাকে উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে, অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একজন স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান না পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত, তাকে উদ্ধার এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।




























