
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুঞ্জর সমিতির খেলার মাঠে মুরাদনগর থানা ও নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত মাদক বিরোধী র্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি এসব কথা বলেন।
মাদকের বিস্তার সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন,
মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমাজব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলছে। এখনই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের কোনো সন্তান মাদক গ্রহণ করুক, তা হতে দেওয়া যায় না।
মাদককে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ওসি। তিনি বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজের ওপরই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তিনি কখন খুন, চুরি বা ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়বেন, তা আগে থেকে বলা যায় না। সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুরাদনগর থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। আপনারা তথ্য দিন, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। মাদকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সোচ্চার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক দল নেতা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সোহেল আহমেদ বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান,
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহমান আল মুজাফফার, গুঞ্জর ঐক্য সমাজ পরিষদের নেতা রিয়াদ আহমেদ, প্লাবন, খোরশেদ আলম মাস্টার, অ্যাডভোকেট হাসান আহমেদ, সাংবাদিক এন এ মুরাদ, শফিকুল ইসলাম মাস্টার, নবীপুর পূর্ব ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম ও নবীপুর পূর্ব ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকারসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো মূল্যে মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত করতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
র্যালি ও সমাবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীসমাজের প্রতিনিধি, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ নেন।




























