
আকির হোসেন, মোহনগঞ্জ: যে কোনো দেশ বা জাতির অগ্রসর জনপদের জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষা এবং সংস্কৃতির চর্চা। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সেই জনগোষ্ঠী যদি স্বাধীনভাবে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলে অর্থাৎ ওই জনপদে যদি পর্যাপ্ত পাঠাগার থাকে এবং পাঠ চর্চার সুন্দর পরিবেশ এবং সুযোগ থাকে, তাহলে ওই জনপদ অগ্রসর জনপদে পরিণত হয়। মোহনগঞ্জে সাধারণ পাঠাগার সহ আরো কয়েকটি পাঠাগার আছে। পাশাপাশি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমান পাঠাগারের শুভ সূচনা হলো এখানে আজ। মোহনগঞ্জের স্থানীয় রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে এক সুন্দর ও অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশে এই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের শুভ সূচনা করা হয়। শুভ সূচনা লগ্নে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কবি রইস মনরম, ওয়ার্ড কমিশনার নুরুল মোমেন বাবু, সংস্কৃতিজন স্মরণ তালুকদার, ছড়াকার সুবল ধর সহ এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সুধীজন।স্থানীয় কবি আরিফুল ইসলাম পিয়াস বলেন, সাধারণত মানুষকে বইয়ের কাছে যেতে হয়, কিন্তু ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি বইকে মানুষের কাছে নিয়ে যায়। এটি কেবল কিছু বইয়ের স্থানান্তর নয়, বরং এটি সমাজ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দূরত্ব ও বৈষম্য দূর করার একটি নীরব আন্দোলন। প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে বড় কোনো লাইব্রেরি গড়ে ওঠেনি, সেখানে এই লাইব্রেরিগুলোই হয়ে ওঠে আলো ছড়ানোর একমাত্র মাধ্যম।আমি একজন লেখক হিসেবে বলতে চাই, একজন লেখকের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো নতুন পাঠক তৈরি হওয়া।আর পাঠক তৈরিতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে এই ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি।লেখকের সার্থকতা তখনই, যখন তার সৃষ্টি সঠিক পাঠকের কাছে পৌঁছায়। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি লেখকের চিন্তা ও আবেগকে শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বের করে গ্রামের ধুলোবালি মাখা মেঠো পথে নিয়ে যাক এই প্রত্যাশা করি।মোহনগঞ্জে সাধারণ পাঠাগারসহ আরও কয়েকটি পাঠাগার থাকলেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারটি এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানোন্নয়নে এবং তরুণের মধ্যে আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।




























