
সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে নাজেহাল হচ্ছেন রোগীরা। ভর্তি, বেড, টেস্ট সব ক্ষেত্রেই দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। শুধু তাই নয়, রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। পরে ছদ্মবেশে র্যাবের অভিযানে দালাল চক্রের ১৫ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে ঢোকার আগেই দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের ফাঁদে পড়ছেন তারা। টেস্টের সিরিয়াল দ্রুত পাওয়া, ভর্তি কিংবা বেড নিশ্চিত করার নামে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাক্তারের রুমের বাইরে যে লোক ডিউটি করে, সে রোগী দেখেই তদারকি করে। বলে সিট নাই, ভর্তি হবে না; দুই-তিনদিন লেট হবে। এসব ভয় দেখিয়ে অন্তত ১০০০-২০০০ টাকা নেয়। সিরিয়াল ধরতেও টাকা দিতে হয়। কোথাও ১০০০ টাকা দিলে আগে সিরিয়াল পাওয়া যায়। পরে আরও ১০০ টাকা, ২০০ টাকা দিতে হয়। সবকিছুতেই টাকা লাগে।
অনুসন্ধানে অভিযোগ আসে, হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীও এই দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত। তবে সময় সংবাদের সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত নার্স কক্ষে ঢুকে পড়েন ওই কর্মী। পরে তার উপস্থিতি অস্বীকার করেন দায়িত্বে থাকা কয়েকজন নার্স। প্রশ্ন উঠছে, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আড়াল করার এত তৎপরতা কেন।
অভিযুক্ত ওই কর্মী বলেন, ‘ওয়ার্ডমাস্টারকে বলেছিলাম, পরে আমাকে এখানে রেখেছে। কাজকাম করে খাই, এভাবেই চলি।’ বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো বেতন নাই।’
সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রোগীদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো সেবাই মিলছে না। দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের ধরতে র্যাব সদস্যরা রোগী সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগী ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এক দালাল। সেখান থেকেই শুরু হয় অভিযান। অভিযানে জানা যায়, চক্রটি টাকার বিনিময়ে ‘ভিআইপি সিট’ দেয়ার প্রলোভন দেখাত।
র্যাবের ফাঁদে পড়ে একে একে ধরা পড়ে ১৫ জন। অভিযোগ রয়েছে, মহাখালীর রাফা ও সেবা নামের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মাসে ৬ থেকে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের নিয়োগ দিত। আটক দালালরা জানায়, রোগী প্রতি ৫০-১০০ টাকা করে পাওয়া যায়। একটা রোগী ভর্তি করালে ২০০-৩০০ টাকা দেয়া হয়। রোগী নিয়ে গেলে কমিশনও পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও সচেতন করা হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।’
তবে রোগীদের দাবি, শুধু অভিযান নয়; হাসপাতাল থেকে দালাল চক্রকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে হবে।







































