
বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত করতে এবং তাকে পদ থেকে সরাতে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. রমজান আলী এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) পদ থেকে অপসারিত কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব চৌধুরী একজোট হয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
মূলত নিজেদের অতীত অপকর্ম, দুর্নীতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার দায় আড়াল করতেই বর্তমান ডিজিকে লক্ষ্য করে নানা চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা রমজান আলী এবং তার স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোর বিরুদ্ধে দুদকে দুটি পৃথক মামলা চলমান রয়েছে (মামলা নং ৫৭ ও ৫৪/২০২০)। ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়েরকৃত এজাহার অনুযায়ী, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাদের অভিযুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, এই চক্রের অপর সদস্য আহমেদ মাহবুব চৌধুরী ১২৫টি লাগেজ ভ্যান ক্রয়ে অবাস্তব ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে সরকারের প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার ১ নম্বর আসামি। ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের দুর্নীতির মামলায় শাস্তি এড়াতে ও ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে তারা একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিতর্কিত কর্মকর্তা রমজান আলীর একপেশে বক্তব্য ব্যবহার করে ডিজির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রেলওয়ের সর্বস্তরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন বলেন, "রেলওয়েতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা নিজেরা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের দায়ে চাকরি হারিয়েছেন এবং দুদকের মামলার আসামি, তারাই মূলত নেপথ্যে রয়েছে। চক্রান্ত করে রেলের সংস্কার থামানো যাবে না।"
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রেলপথ মন্ত্রী জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। লাগেজ ভ্যান ক্রয় বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। অপপ্রচার চালিয়ে বা মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের অপরাধ ঢাকা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চিহ্নিত এই দুর্নীতিবাজ চক্রটির বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




























