
মো:সোহানুর রহমান স্টাফ রিপোর্টারঃরংপুর নগরের একটি হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহানের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সাবেক প্রাইভেট শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে ওই ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে থানায় মামলা করেন নুজসাতের বাবা নজরুল ইসলাম।গ্রেপ্তার শাহরিয়ার আহমেদ (২৪) রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি নগরের ধাপ চিকলীভাটা এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ জানিয়েছে, ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার আগে নুজসাত তাঁর মুঠোফোনের সব তথ্য মুছে ফেলেছিলেন। তবে সিমের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে শাহরিয়ারের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনালাপের তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের ধাপ এলাকা থেকে শাহরিয়ার আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি একসময় নুজসাতকে প্রাইভেট পড়াতেন। তদন্তে দুজনের মধ্যে প্রায় ৯ থেকে ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের কোতোয়ালি থানায় নুজসাতের প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদের (২৪) বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন নুজসাতের বাবা নজরুল ইসলাম। মামলায় আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে তিনি মেয়ের মুঠোফোন পান, যেখানে বার্তাসহ বিভিন্ন তথ্য মুছে ফেলা অবস্থায় ছিল। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ারের সঙ্গে তাঁর মেয়ের একসঙ্গে তোলা ছবি ও কথোপকথনের বার্তা ফোনে ছিল। এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাহরিয়ারের মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।থানা থেকে আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের কাছে শাহরিয়ার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নুজসাত আমার ছাত্রী ছিল। চারজনের একটি ব্যাচে সে আমার কাছে পড়ত। একপর্যায়ে আমি বুঝতে পারি, সে আমাকে পছন্দ করে। তখন আমি ওই ব্যাচ থেকে সরে আসি। পরে তার মায়ের অনুরোধে তাকে অন্য একটি ব্যাচে নিই; কিন্তু সেখানেও সে আমাকে পছন্দ করত এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করত। পরে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিই।’ তিনি দাবি করেন, প্রায় তিন মাস আগে নুজসাতকে পড়ানো বন্ধ করেছেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কোনো দায় নাই।




























