
মোঃ কাওছার আহম্মেদ , গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে ঘাঘট নদীর ভাঙন রোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন জিওব্যাগ স্থাপন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নদী রক্ষায় জিওব্যাগে বালু ভরাট করে নদীতে ফেলার কাজ চললেও স্থানীয়দের অভিযোগ, যে স্থানে নদীভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, ঠিক সেই এলাকার পাশ থেকেই শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই বালু দিয়েই জিওব্যাগ ভর্তি করে নদীতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একদিকে নদী রক্ষায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে, অন্যদিকে একই এলাকার নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে প্রকল্পের কার্যকারিতা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনকবলিত এলাকার এত কাছ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাদের মতে, বিষয়টি পরিবেশগত ও কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাজ চলাকালে ঘটনাস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা তদারককারীকে দেখা যায়নি। এতে সরকারি প্রকল্পের মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, "যেখানে নদী ভাঙছে, ঠিক সেখানেই ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেই বালু দিয়েই বস্তা ভরাট করা হচ্ছে। এতে আমাদের উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।" স্থানীয়দের দাবি, নদী রক্ষার নামে পরিচালিত এই প্রকল্পে ভাঙনকবলিত এলাকার পাশ থেকে বালু উত্তোলনের যৌক্তিকতা, অনুমোদন ও কারিগরি ভিত্তি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কাজের স্থানে কোনো কর্মকর্তা না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, "ঠিকাদারের মোবাইল নম্বর দিচ্ছি, আপনার সঙ্গে ঠিকাদার দেখা করবেন।" পরে প্রকল্পের ঠিকাদার মুক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হয়, নদীভাঙনের পাশেই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি কীভাবে পেয়েছেন। জবাবে তিনি বলেন, "পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অনুমতি নিয়েই এই কাজ করছি। আপনার বিশ্বাস না হলে অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।" অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।





























