
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টার,সুনামগঞ্জ: হাওরের ঢেউ যেমন থেমে থাকে না,তেমনি থেমে থাকে না সত্যের অভিযাত্রাও। সময়ের স্রোতে অনেক প্রতিষ্ঠান হারিয়ে যায়,অনেক নাম মুছে যায় ইতিহাসের পাতা থেকে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান মানুষের বিশ্বাস,আস্থা ও ভালোবাসার শক্তিতে সময়কে অতিক্রম করে হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর তেমনই একটি নাম। সত্য, সাহস এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা পত্রিকাটি আজ গৌরবের সঙ্গে অতিক্রম করেছে ১৫ বছর।২০১১ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সুনামগঞ্জের খবর দীর্ঘ এই পথচলায় জেলার গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।জেলার উন্নয়ন,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,কৃষি, পরিবেশ,সংস্কৃতি,হাওরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অসংখ্য বিষয় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে পত্রিকাটি।প্রতিদিনের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সমাজের নানা অসঙ্গতি,অনিয়ম ও সম্ভাবনার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে সুনামগঞ্জের খবর। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ পর্যন্ত তুলে ধরে পত্রিকাটি হয়ে উঠেছে পাঠকের নির্ভরতার প্রতীক।বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, ,পরিবেশ সংরক্ষণ,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট,কৃষকের সমস্যা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা বাস্তবতা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার কারণে পাঠকের কাছে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ,পাঠক,সাংবাদিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার পাঠকের আস্থা। সেই আস্থার ভিত্তিতেই ১৫ বছরের সফল পথচলা সম্পন্ন করেছে সুনামগঞ্জের খবর।টাঙ্গুয়ার হাওর প্রত্যন্ত অঞ্চল ইন্দ্রপুর গ্রামের পাঠক অখিল তালুকদার বলেন,হাওরের এই দুর্গম জনপদে বসবাস করলেও জেলার খবর জানার আগ্রহ কখনো কমেনি। পত্রিকা পড়া আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস,বরং বলা যায় নেশা। আমাদের এলাকায় পত্রিকা পৌঁছায় না,তাই প্রতিদিন ই-পেপারের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের খবর পড়ি। এই পত্রিকার পাতায় আমি খুঁজে পাই আমার জনপদের কথা, হাওরের মানুষের জীবনসংগ্রাম, সুখ-দুঃখ ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। ১৫ বছরের এই গৌরবময় অর্জন শুধু একটি সংবাদপত্রের নয়, আমাদের মতো অসংখ্য পাঠকেরও অর্জন। কারণ সুনামগঞ্জের খবর আমাদের কাছে শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি আমাদের মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর।মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল বলেন,একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার নিরপেক্ষতা ও পাঠকের আস্থা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সুনামগঞ্জের খবর জেলার মানুষের সুখ-দুঃখ,সমস্যা-সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থের নানা বিষয় সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের কথা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করায় পত্রিকাটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে সুনামগঞ্জের খবর পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন,একটি অঞ্চলের উন্নয়ন,সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে স্থানীয় সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর ধরে সুনামগঞ্জের খবর সুনামগঞ্জের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা,সুখ-দুঃখ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে সুনামগঞ্জের খবর পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আগামী দিনেও সত্য,সাহস ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে পত্রিকাটি জনমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে আরও এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।জেলার সচেতন মহল মনে করেন,স্থানীয় গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না;বরং সমাজের সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের পথও দেখায়। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সুনামগঞ্জের খবর গত ১৫ বছরে পাঠকের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছে।পত্রিকা সংশ্লিষ্টরা জানান,পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে আগামী দিনেও জনস্বার্থের প্রশ্নে সোচ্চার থাকবে সুনামগঞ্জের খবর।সত্য,ন্যায় এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখাই হবে পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।পনেরো বছরের এই অর্জন কেবল একটি পত্রিকার নয়; এটি জনবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল ইতিহাস। পাঠকের ভালোবাসা, সংবাদকর্মীদের নিষ্ঠা এবং সত্যের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতার শক্তিতেই আজ সুনামের ১৫ বছর পূর্ণ করেছে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর। আর সেই কারণেই জেলার অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে আজও আস্থার প্রথম সারিতে রয়েছে এই পত্রিকাটি।




























