
জাহাঙ্গীর সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি :৫০টি লিচু বলে বিক্রি করেও ৩৮টি লিচু দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়ক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।জেলা জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পাকাপোল, নিউমার্কেট মোড়, হাটের মোড়, বকচরা মোড়, খুলনা রোড, টাউন বাজার, পুরাতন সাতক্ষীরা, কদমতলা বাজারসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে লিচু বিক্রি করা হচ্ছে। মাইকিং করে ৫০টি লিচু বলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হলেও পরে গুনে কম লিচু পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলেও অনেকেই লজ্জা ও ঝামেলা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ না করে চলে যান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু বিক্রেতা নির্দ্বিধায় একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হলেও প্রকাশ্যে খুব কমই অভিযোগ উঠে আসে।পাকাপোল এলাকার এক ক্রেতা বলেন, ৫০টি লিচু বলে কিনেছি। পরে গুনে দেখি ৩৮টি। জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতা উল্টো কথা বলে বেশি দামে কিনলে ভালো পেতেন, কম দামে নিলে এমনই হবে।তিনি আরও বলেন, একইভাবে বিভিন্ন জায়গায় একই অবস্থা চলছে। কেউ কিছু বললে বিক্রেতারা নানা কথা বলে এড়িয়ে যায়।একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো সংখ্যা বলে বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।সচেতন মহল বলছে, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে। তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, ভ্রাম্যমাণ দোকানের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা থাকে। তবে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনোভাবেই ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না।





























