
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয় ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। সচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস পরপর আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে কুসিকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে নগরীকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপ দিতে বেশ কিছু বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন , অতীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রভাব থাকায় অনেক কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসন সেই চক্র ভেঙে জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।নগর উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, গোমতী নদীর দুই তীরজুড়ে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ করা হবে। পার্কের মাঝখানে থাকবে আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু, যা নগরবাসীর জন্য নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এছাড়া লিবার্টি চত্বরকে পূবালী চত্বরের আদলে সম্প্রসারণ করে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফোয়ারা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।সভায় কুসিক প্রশাসন তাদের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত চিত্র উপস্থাপন করে। রাজস্ব খাতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার ৬৪ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। আগের স্থিতিসহ মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৪ টাকা, যার মধ্যে ব্যয় শেষে বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৮ টাকা।উন্নয়ন প্রকল্পভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সিআইডিপি (ডিপিপি) প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ৯৭৭ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৫ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭৭ টাকা এবং অবশিষ্ট রয়েছে ৩০১ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১২৭ টাকা। ইতোমধ্যে এই খাত থেকে ১১টি প্রকল্পে প্রায় ৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।এলজিএসপিআরআরপি (কোভিড-১৯) প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ছিল ২৮ কোটি ৮২ লাখ ৪১ হাজার ২১০ টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ টাকা। ফলে অবশিষ্ট রয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৬ টাকা।অন্যদিকে ইউডিসিজি প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ৭৩ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯১ টাকা এবং অবশিষ্ট রয়েছে ৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৯ টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট প্রাপ্তি হয়েছে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫১ টাকা, যার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ১৪১ টাকা। বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ২১০ টাকা। এই অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ১০৯টি প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।





























