
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ভাবকী-রায়গঞ্জ সড়কের বাগবাড়ী এলাকায় বিকল্প সড়ক না করেই চলছে এক বেইলি ব্রিজের নির্মাণকাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে দুই পাড়ে বসবাসকারী কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষসহ স্কুল ও মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীরা।
ব্রিজ নির্মাণ করার শুরুতেই গাড়ি চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা না করে নির্মিত ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি না ভেঙে ওই ব্রিজের ওপরে চলছে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। ফলে ওই সড়কে গত শুক্রবার সকাল থেকেই ওই সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন চলাচল করতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো পথচারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস ধরে সেতুটি মাঝের অংশ ভেঙে পড়েছিল। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। ভাবকী-রায়গঞ্জের এ সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে। সড়কে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে সেতুর পাশে বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করেই। ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু না ভেঙেই তার ওপরে বেইলি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভাবকী-রায়গঞ্জ সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সোলাইমান মিয়া নামে এক ইজিবাইকচালক বলেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় খুব ভোগান্তি হয়ে গেছে। একা মানুষই ভালো মতো পায়ে হেটে আসতে পারে না। লোকজন দূরদূরান্ত দিয়ে ঘুরে ঘুরে আসে।
মেলান্দহের চর সগুনা এলাকার মনিরুজ্জামান নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ১০ কিলোমিটারে এসে দেখি যাতায়াত বন্ধ। বিকল্প সড়ক না করাই খুব ভোগান্তিতে পড়েছি, আশপাশে আর সড়ক নাই, এখন প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরতে হবে। উপায় না পেয়ে ধানের ক্ষেতের আইল দিয়া পাঁচজনে মিলে গাড়িটা পার করলাম কোনোরকম।
মাদারগঞ্জের আদারভিটা ইউনিয়নের কামরুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, জামালপুর শহরে গিয়েছিলাম শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ী হয়ে। জানিনা এই সড়ক বন্ধ, তাহলে ওই সড়ক দিয়েই যাইতাম। ভাবকী থেকে বাগবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্ব, এখানে এসে দেখি সেতু নির্মাণ করছে। কিন্তু এখানে বিকল্প কোনো সড়ক নাই, যাতায়াত বন্ধ। এখন প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে বেলতৈল আসতে হবে। আর এই সেতু থেকে বেলতৈল মাত্র ৩ কিলোমিটার। বেইলি ব্রিজ নির্মাণ শ্রমিক মো. বাতাশু বলেন, বেইলি সেতু ২১ মিটার দৈর্ঘ্যরে নির্মাণ করা হচ্ছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম লিটু বলেন, এটি কোনো ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে না জনস্বার্থে কাজটি করানো হচ্ছে। দু-একদিনের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তাই কোনো বিকল্প সড়ক করা হয়নি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) শুভাশিষ রায় বলেন, একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন বন্ধ রয়েছে কিনা বা কী অবস্থা রয়েছে জানিনা। মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে আমি বলতে পারব।





























