
টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা আকস্মিক পানিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসক-নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে দুর্গত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালুসহ আটটি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বন্যায় আক্রান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি মেডিকেল টিমসহ পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন, কলেরা স্যালাইন এবং এ্যান্টি-ভ্যানমসহ অন্যান্য জরুরি ঔষধ মজুদ আছে। এ সকল এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মকর্তাদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যার্তদের সহায়তায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বন্যা বিষয়ক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যার মোবাইল নং ০১৭৫৯১১৪৪৮৮। এর মাধ্যমে সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যাবে। এই কন্ট্রোল রুমের অধীনে দেশের সকল স্বাস্থ্য স্থাপনা সার্বক্ষণিক সংযুক্ত আছে।
এর আগে ২২ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৮ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নির্দেশনাগুলো হলো-
১. বন্যাকবলিত এলাকার সব সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পিনা কর্মকর্তা কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোলরুম চালু রাখতে হবে।
২. প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদিসহ মেডিকেল টিম গঠন করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে।
৩. বন্যাকবলিত এলাকায় প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি ডায়রিয়া, সর্প দংশনসহ বন্যা সংক্রান্ত অন্যান্য রোগের চিকিৎসার জন্য যথোপযুক্ত প্রস্তুতি রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, এন্টি ভেনম ইত্যাদি মজুত রাখতে হবে।
৪. বন্যাদুর্গত এলাকার হাসপাতালে যন্ত্রপাতিগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য উচু স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে;
৫. জরুরি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রীসহ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে হবে।
৬. বন্যাদুর্গত জেলাগুলোর সব চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
৭. স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য বন্যাদুর্গত এলাকার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হলো।
৮. বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় ও যোগাযোগ রাখতে হবে।







































