
মো আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রে মো. ফোরকান মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভর্তি করানোর মাত্র পাঁচদিনের মাথায় ওই যুবককে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।ফোরকান জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে। বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফোরকানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ফোরকান মিয়ার বড় ভাই মো. ইমন মিয়া জানান, তার ভাই মাদক সেবন করতেন। ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য তার ভাইকে প্রয়াস নামে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার সময় তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা ছিলো।
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার সময় প্রয়াস থেকে আমাদেরকে ফোন দিয়ে জানানো হয় ফোরকান অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফোন পেয়ে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এলেও এখানে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি। পরে সেখান থেকে প্রয়াস মাদক চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে আমার ভাইয়ের লাশ। অফিস তালা দিয়ে পুর্নবাসন কেন্দ্রের সবাই চলে গেছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিজ উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের চিকিৎসা না দিয়ে পুর্নবাসন কেন্দ্রের লোকজন তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এর আগেও ওই কেন্দ্রে এমন ঘটেছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।
এ ব্যাপারে প্রয়াস মাদক চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হয়। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।





























