
ইয়ার রহমান আনান, কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজত কক্ষে দুর্জয় চৌধুরী (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে উক্ত ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফউদ্দিন শাহীনের স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়—চকরিয়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামকে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে জেলা পুলিশের পরিদর্শক তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস।
এই ঘটনার পরদিনই শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে চকরিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হানিফ মিয়া, কনস্টেবল ইশরাক হোসেন ও মহিউদ্দিনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী হিন্দুপাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। বয়স মাত্র (২৫)। কর্মজীবনে তিনি চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবিয়া খানম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্জয়কে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং রাতেই তাঁকে হাজতে রাখা হয়।
চকরিয়া সঃ উঃ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানমকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি।
কিন্তু শুক্রবার ভোরে থানার হাজতখানার গ্রিলের সঙ্গে নিজের শার্ট পেঁচিয়ে দুর্জয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় পুলিশ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—থানা হাজতের নিরাপত্তার মধ্যেই কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল?
চকরিয়া সার্কেলের এএসপি অভিজিৎ দাস বলেন,“জনস্বার্থে চকরিয়া থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন ওসি তৌহিদুল আনোয়ার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—থানায় আটক একজন তরুণের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই প্রমাণিত হবে।





























