
অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে ওপেনার হিসেবে নামা মার্নাস লাবুশেনের পছন্দের নাম না হলেও, উসমান খাজা মনে করেন, কখনও কখনও দলের প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ইচ্ছার বাইরে গিয়ে ভূমিকা নিতে হয়। আর যদি লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নির্বাচকেরা এমন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লাবুশেন তা ভালোভাবেই সামলাবেন বলেও আস্থা রাখেন খাজা।
ডেভিড ওয়ার্নারের বিদায়ের পর টপ অর্ডারে পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে অস্ট্রেলিয়া। সেই ভাবনার অংশ হিসেবে খাজার সঙ্গী হিসেবে ওপেন করতে পারেন মার্নাস লাবুশেন। যদিও এক বছর আগে যখন এমন সম্ভাবনার কথা উঠেছিল, তখন খাজা মজা করে বলেছিলেন, “লাবুশেনের মনে হয় ওপেনিং-ফোবিয়া আছে।” এবারও সোমবার এক সাক্ষাৎকারে হাস্যরসের সুরে বললেন, “সে এখনো ওটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি!”
তবু লাবুশেনের অভিজ্ঞতা ও ১১টি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডের কথা ভেবে তাকে এগিয়ে রাখছে নির্বাচকেরা। ১৯ বছর বয়সী স্যাম কনস্টাস ভারতের বিপক্ষে অভিষেক পেলেও বড় মঞ্চে লাবুশেনের কাঁধেই ভরসা রাখতে চাইছে দল। এমন সিদ্ধান্ত হলে সেটা লাবুশেনের জন্য বড় সুযোগ, কারণ অ্যাশেজের আগে একটি স্থায়ী ওপেনিং জুটি গড়ে তুলতে চায় অস্ট্রেলিয়া। "অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেললে সব সময় নিজের পছন্দ মতো কিছু পাওয়া যায় না," বলেন খাজা। “এই দলে দেশের সেরা ছয় ব্যাটার আছে। আমিও বহুবার এমন পজিশনে ব্যাট করতে চেয়েছি, যেটা আমার বেশি পছন্দ। কিন্তু সবসময় সুযোগ মেলে না। কৃতজ্ঞ থাকতে হয় যে দেশের হয়ে খেলছি।”
লাবুশেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫ বার ইনিংস ওপেন করেছেন, যদিও ২০১৬ সালের পর মাত্র একবার। তবে টেস্টে নিয়মিত তিন নম্বরে খেলায়, শুরুতে দ্রুত উইকেট পড়লে প্রায়ই তাঁকে নামতে হয়।
"আপনাকে যা দেয়া হয়, সেটা নিয়েই সেরাটা দিতে হয়। দিন শেষে এটা একটা দলগত খেলা," বলেন খাজা। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর থেকে ওপেনিংয়ে স্থায়ী হয়েছেন তিনি। “দলের জন্য আমার সেরা পজিশন ওপেন করা, আমি খুশি ওই ভূমিকায় খেলতে। যদি একই কথা মার্নাসের জন্যও প্রযোজ্য হয়, তাহলে আমি নিশ্চিত- সে সেই দায়িত্ব নেবে।” খাজা আরও বলেন, “যখন আপনি তিন নম্বরে ব্যাট করেন, তখন ওপেনিংয়ে যাওয়া তুলনামূলক সহজ। কঠিন তখনই হয়, যখন আপনাকে দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করতে বলা হয়। তখন হুট করে প্যাড পরে নামতে হয়। আগে যখন তিন নম্বরে ছিলাম, তখন আরামে বসে থাকতাম। এখন আর সে সুযোগ নেই! তবে মার্নাস অসাধারণ একজন ব্যাটার। সুযোগ পেলে ও ঠিক সামলে নেবে।”
ওয়ার্নার অবসরের পর ওপেনিংয়ে একাধিক ক্রিকেটারকে ব্যবহার করেছে অস্ট্রেলিয়া- স্টিভেন স্মিথ, নাথান ম্যাকসুইনি, কনস্টাস, এমনকি শ্রীলঙ্কায় কন্ডিশনের কথা ভেবে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রাভিস হেডকেও। তবে এসব নিয়ে একদমই চিন্তিত নন খাজা। তাঁর ভাষায়, “একজন ওপেনার প্রথম বলেই আউট হতে পারে, তখন তো তিন নম্বর ব্যাটারকেই নামতে হয়। তাই ব্যাপারটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলে থাকা সবার সঙ্গেই আমি ব্যাট করেছি। ওপেনিং পজিশন অনেকদিন ধরেই ঘুরে-ফিরে পরিবর্তন হচ্ছে। কারণ, এটা সহজ জায়গা না। কঠিন একটা জায়গা ব্যাট করার জন্য।”
“ডেভি (ওয়ার্নার) যাওয়ার পর আমার অনেক পার্টনার হয়েছে। এটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং একটা জায়গা। টেস্ট ক্রিকেটে লুকানোর সুযোগ নেই। তবে আমি নিশ্চিত, যেই আসুক, ভালই করবে। আর আমার কাছে ব্যাপারটা আলাদা কিছু না।”







































