
স্টাফ রিপোর্টার:
হাওরের জলরেখায় জীবিকা যেমন ভাসমান, তেমনি সেই জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। কিন্তু তাহিরপুরের শ্রীপুর বাজার নৌঘাটের খাস-কালেকশন ঘিরে সেই স্বচ্ছতার জায়গাটিই এখন ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পহেলা বৈশাখের দিন নৌঘাট থেকে আদায়কৃত খাস-কালেকশনের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানতে চাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গড়িমসি, এড়িয়ে যাওয়া ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
অভিযোগ অনুযায়ী,তহসিলদারের সহকারী কাজলের কাছে ওই দিনের নৌকা সংখ্যা ও আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ১৫ মিনিট পর যোগাযোগ করতে বলেন। পরে নির্ধারিত সময়ে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি তহসিলদারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।পরবর্তীতে সরেজমিনে শ্রীপুর তহসিল অফিসে গিয়ে তহসিলদার অশীষ কুমার চক্রবর্তীর কাছে হিসাব জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিকেলের মধ্যে হিসাব দেওয়া হবে বলে জানান। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। রাতেও যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুরো হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি এবং পরদিন জানানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, “গতকাল থেকেই তহসিলদার খাস আদায় শুরু করেছেন। আমি ব্যস্ত ছিলাম, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পহেলা বৈশাখের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে নৌঘাট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও তার স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী হিসাব প্রকাশ না পাওয়া প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন বা হিসাব প্রদানে গড়িমসি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আদায়ের হিসাব প্রকাশ এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিস থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।




























