
শাহিন মিয়া (অষ্টগ্রাম)
"অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে" এই স্লোগান কে সামনে রেখে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয় করণ তৃতীয় পর্যায়ে প্রকল্প স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী সচেতনতামূলক মাইকিং, প্রচারণামূলক রেলি, ভিডিও শো প্রদর্শন, প্রশ্ন উত্তর পর্ব কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ, উক্ত প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ সহ পাঁচজন ইউপি সদস্য, সদস্য ছিলেন দুইজন, সার্বিক পরিচালনায় মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা সমন্বয়কারী, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প অষ্টগ্রাম কিশোরগঞ্জ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অষ্টগ্রাম নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ।
মোঃমিজানুর রহমান বলেন, গ্রাম আদালত হলো স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। এটি মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে অনেক বিরোধ স্থানীয়ভাবে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, ফলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ এবং স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা যায়। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, স্থাবর সম্পত্তি দখল সংক্রান্ত বিরোধ, চুরি, কলহ, মারামারি এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
বক্তারা গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনগণ উচ্চ আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিবদমান সমস্যা গুলো সমাধানের আহবান জানান। তাছাড়া এনজিও ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যামে সচেতনতা বৃদ্ধির জোর দাবী জানান।
কর্মশালায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৬৯টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৭.৩১%। সে অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ট৯৭.৩১%। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ১৭টি।




























