
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়ে ঘুষের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আকরাম হোসেন এমন মন্তব্য করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার সুশীলন অফিসের হলরুমে “জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল উৎপাদনে প্রান্তিক নারী কৃষকদের অন্তর্ভুক্তিকরণে নীতি-নির্ধারকদের ভূমিকা” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, সমবায় সমিতির নিবন্ধনের জন্য জেলা অফিসে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। এছাড়া উপজেলা অফিসে কাগজপত্র ঠিকঠাক করা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও কিছু টাকা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের অফিস সরাসরি নিবন্ধনের জন্য টাকা নেয় না, তবে অফিস সময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ, কাগজপত্র প্রস্তুত এবং আবেদন লিখে দেওয়ার জন্য কিছু অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জেলা অফিসে টাকা না দিলে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন।
এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা জেলা অফিস ও উপজেলা অফিসে কত টাকা ঘুষ দিতে হয়—এমন প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রশ্নটিকে “অহেতুক” বলে মন্তব্য করেন।
এ ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, সমবায় সমিতি নিবন্ধনের জন্য জেলা অফিস কোনো ধরনের টাকা নেয় না। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কালিগঞ্জ রোকেয়া মুনসুর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ কওসার তুহিন, চম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম এবং কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খাইরুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।




























