
আরাফাত আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের আদেশ ও থানা পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গভীর রাতে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৮ মে) রাত আড়াইটার দিকে এবং শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল উপজেলার নলতা কেবিএ কলেজ সংলগ্ন মোবারকনগর গ্রামে।
ভুক্তভোগী মাহফুজুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৯ মে) দুপুরে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে, অভিযোগ ওঠে ঘটনাটি আড়াল করতে নলতা ঘোষ ডেইরির মালিক অসিত কুমার ঘোষ থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলতা মৌজার আরএস ২৫-৮৫৫৪ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৫৭৯ নম্বর দাগের সাড়ে ১৮ শতক জমি মাহফুজুল ইসলামের স্ত্রী রাফিজা খাতুন ২০২৪ সালের ১ আগস্ট ও ৩১ ডিসেম্বর একই গ্রামের নাজমুল আহসান ওরফে রুমির কাছ থেকে দুটি দলিলমূলে ক্রয় করেন এবং সেখানে বসবাস করে আসছেন। একই দাগের আরও ১৫ শতক জমি ২০১৮ সালে রুমির বোন জাহানারার কাছ থেকে কিনেছিলেন অসিত কুমার ঘোষ। ওই জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
এ ঘটনায় রাফিজা খাতুন গত ২২ এপ্রিল সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অসিত কুমার ঘোষ, তার ভাই অজয় কুমার ঘোষ ও ছেলে রাকেশ এবং রাজেশ চন্দ্র ঘোষকে বিবাদী করে ১০৭ ও ১১৭(৩) ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে ১৪৫ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অসিত ঘোষ ও তার সহযোগীরা গভীর রাতে ২০ থেকে ২৫ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে মাহফুজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ও প্রাচীর ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অসিত কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার দখলকৃত জায়গায় রাতের আঁধারে দোকানের পাকাঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, জমিটি নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই আব্দুর রহিম জানান, আদালতের নোটিশ অসিত ঘোষকে প্রদান করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে ওসিকে জানানো হবে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্তে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























