
স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতি এখন চরম অস্থিরতায়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ২নং বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিতর্কিত আহবায়ক সুজন মিয়া।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুজন একসময় কুখ্যাত “সেইল্লা ও আমসর বাহিনী”-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই—এসব অপরাধে একসময় তার নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হতো। সেইল্লা বাহিনীর প্রধান সেলিম উদ্দিন ওরফে সেইল্লা গণধোলাইয়ে নিহত হওয়ার পর সুজন নতুনভাবে রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসে। প্রথমে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল আউয়ালের ছত্রছায়ায় সক্রিয় থাকলেও,তার মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করে এবং বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সুজন অর্থ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটিতে খাইরুল মিয়া নামের এক বিএনপির কর্মী কে সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে।খাইরুল মিয়া কে পদ না দিয়ে আওয়ামীপন্থী একজনকে ওই পদে বসান সুজন মিয়া এতে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানাযায়। একইভাবে ৯নং ওয়ার্ডে আওয়ামী দোসর রাসেল মিয়াসহ আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের টাকার বিনিময়ে সদস্য পদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী খাইরুল ইসলাম বলেন,আমাকে সাধারণ সম্পাদকের পদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেয় সুজন মিয়া।আমি টাকা দিয়েও পদ পাইনি। পরে বংশীকুন্ডা বাজারে সুজনের কাছ থেকে আমরা কয়েকজন উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক টাকা উদ্ধার করি এবং ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বশীলদের বিষয়টি জানাই।”
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদল নেতা পারুল মিয়া জানান, “খাইরুল ভাই আমাকে সব ঘটনা জানালে আমি এবং আরও কয়েকজন মিলে সুজনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে খাইরুল ভাইকে ফেরত দেই।”
একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি জুলহাস মিয়া বলেন, “আমাদের অনেক ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে যাদের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল, তাদের টাকার বিনিময়ে কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। আমরা উপজেলা আহবায়ক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সুজনের এই কর্মকাণ্ড বিএনপির ভেতরে বিভাজন বাড়াচ্ছে এবং দলীয় ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যোগ্য ও ত্যাগী নেতারা বাদ পড়ছেন, বিতর্কিত ও আওয়ামী ঘনিষ্ঠরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন, যা দলকে ভবিষ্যতে আরও দুর্বল করবে।
তৃণমূল নেতাদের দাবি—দলের সুনাম রক্ষায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও সুজনের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় নির্বাচনকে সামনে রেখে দল আরও বড় সঙ্কটে পড়বে।
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সুজন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও সংযোগ বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।





























