
সাব-হেডিং:
স্বীকারোক্তি ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ৪৮ দিনেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের
বেলাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ ঘিরে প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, কারণ অভিযুক্ত প্রার্থীর চাকরি বহাল রাখতে ‘ম্যানেজ’ করার নামে ঘুষ দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে।
গত ২ মার্চ ‘আলোকিত সকাল’-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অডিও রেকর্ড, কথোপকথন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বীকারোক্তিসহ প্রক্সি কেলেঙ্কারির নানা তথ্য উঠে আসে। তবে প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত প্রার্থী আমান উল্লাহ নাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার নিয়োগ বহাল রাখতে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। এমনকি এ প্রস্তাবে অভিযুক্ত প্রার্থীও সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমান উল্লাহ নাহিন লিখিত পরীক্ষায় নিজে অংশ না নিয়েও প্রক্সির মাধ্যমে উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তার নিজের বক্তব্য, অডিও রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তখন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এখন নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, পুরো ঘটনাটি অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ‘সমাধান’ করার চেষ্টা চলছে।
সূত্র আরও জানায়, প্রক্সি কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর অভিযুক্ত প্রার্থী ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে। সম্ভাব্য তদন্ত ঠেকাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে প্রকাশিত তথ্যে আমান উল্লাহ নাহিন স্বীকার করেন, হাটহাজারী উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তার দাবি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী তার হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা নিয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে।
মৌখিক পরীক্ষাতেও অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী সিন্ডিকেটের সহযোগিতা না পেয়ে তিনি নিজেই ভাইভা বোর্ডের একজনকে ‘ম্যানেজ’ করে পরীক্ষা দেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যের পরিচয়ে পরীক্ষা দেওয়া বা এতে সহযোগিতা করা দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রতারণা হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা অর্জন, জালিয়াতি বা জাল নথি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। একাধিক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে যুক্ত থাকলে তা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারি চাকরি নিশ্চিত করতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিস্তারিত জানতে সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে, এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন বা তদন্ত শুরুর ঘোষণা না আসায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




























