
বিনোদন প্রতিবেদক:
ডিজিটাল বিশ্ব যেভাবে লাগামহীন ঘোড়ার মতো দ্রুতগতিতে ছুটছে, তাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে আমাদের জীবনযাত্রার মানে এবং কর্মক্ষেত্রে। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি করছেন নতুন নতুন সম্ভাবনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আয়ের অন্যতম বড় উৎসে পরিণত হয়েছে। আগে যেখানে ইউটিউবই ছিল আয়ের মূল মাধ্যম, এখন ফেসবুকও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছে বিশাল সুযোগের দরজা।
কেউ ভ্লগ করছেন, কেউ করছেন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, আবার কেউ পণ্য বিপণন। অল্প কিছু সময় দক্ষতার সাথে ব্যয় করেই অনেকেই অর্জন করছেন সফলতা ও স্বাবলম্বিতা।
এমনই একজন সফল তরুণ নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার শাদাব হোসেন। বর্তমানে তিনি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই বাইরের খাবারের প্রতি ছিল শাদাবের বিশেষ আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ফুড ভ্লগিং।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বিভিন্ন খাবারের রিভিউ করেছেন তিনি—খুলনা, সিলেট, চাঁদপুর, রাজশাহী, নরসিংদী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার, ফেনী, যশোর, মাদারীপুরসহ দেশের নানা প্রান্তে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার কাজ ছড়িয়ে গেছে। কলকাতা, নেপাল, মেঘালয়, চেন্নাই, অস্ট্রেলিয়া এবং থাইল্যান্ডের খাবারের রিভিউ করে শাদাব পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি।
শাদাবের যাত্রায় সবচেয়ে বড় প্রেরণা তার মা। অনেক রেস্টুরেন্টে প্রথমদিকে ভিডিও করতে বাধার সম্মুখীন হলেও মা ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে সবসময় শাদাবকে সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি বন্ধু সোয়াদ ক্যামেরা এবং ভিডিও এডিটিংয়ে সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরের মাধ্যমে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে নিজের খরচ চালাতে পারছেন স্বাচ্ছন্দেই।
প্রথম দিকে টানা তিন বছর ইউটিউবে ভিডিও বানালেও ভিউ আসত খুবই কম। কিন্তু হাল ছাড়েননি শাদাব। শাদাবের মতে, যে কোনো কাজ শুরু করলে সেটি নিয়ে লেগে থাকতে হবে। সহজে ছেড়ে দিলে চলবে না।
নতুন ফুড ব্লগার দের প্রতি শাদাবের পরামর্শ- ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে চাইলে ধৈর্য ধরে অন্তত ১ থেকে ৩ বছর কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
পরিশেষে শাদাব তার অনুসারীদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।





























