
মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কুমিল্লা দক্ষিণঃ
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, যা অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফলে অনেকেই সন্তানদের বাইরে খেলাধুলা করতে দিতে ভয় পাচ্ছেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, গত এক সপ্তাহে শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই ২০ জনেরও বেশি কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, তাই আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
শনিবার সকালে লাকসাম উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমের আওতায় পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর শনাক্ত করে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নারগিস সুলতানা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষ্ণ মল্লিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহির আহমেদ সবুজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
কার্যক্রমের শুরুতে উপজেলা পরিষদ মাঠে কয়েকটি কুকুরকে ধরে সফলভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।
পরবর্তীতে দৌলতগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়। এ কাজে সহায়তার জন্য নীলফামারী জেলা থেকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত “ডগ ক্যাচিং স্কোয়াড” আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ, যা একবার দেখা দিলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
তাই প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর উপায় সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে এবং ধাপে ধাপে উপজেলার সব বেওয়ারিশ কুকুরকে এর আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি কুকুরের কামড়ের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।




























