
জাহিদ হাসান মুক্তার,
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী জানায়, পড়তে বসার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়—কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর ফিরে আসে। এতে প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে গত ২২ এপ্রিল পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন ও কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পাকুন্দিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কাছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “ভয়েস অব পাকুন্দিয়া”-এর পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অ্যাডমিন প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রকি, মোজাম্মেল হকসহ আরও অনেকে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকাতেও। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা ঠিকমতো গাড়ি চার্জ দিতে না পারায় আয় হারাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্স পেশাজীবীরাও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এসএসসি পরীক্ষার্থী নাঈম বলেন, “পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হবে।"
অটোরিকশা চালক শাহীন জানান, “আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ হয় না, ফলে সময়মতো রাস্তায় নামতে পারি না—আয়ও কমে গেছে।"
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হাসান বলেন, “সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পেরে লোকসান গুণতে হচ্ছে।"
স্থানীয়দের মতে, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জেলায় ১০টি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।


































