
জ্বালানি তেল সংকটে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ও সরবরাহ। পাশাপাশি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাপনায়ও সচল রাখা যাচ্ছে না কারখানা।
শিল্প মালিকরা বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের সাড়ে সাত হাজার প্রতিষ্ঠান ব্যাপক লোকসানের শঙ্কায়।
জ্বালানি সংকটের মাঝেই গত কয়েকদিন ধরে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং। দিনে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ বার আসা-যাওয়া করছে বিদ্যুৎ। এতে শিল্পকারখানায় কমে গেছে উৎপাদন।
নারী পোশাককর্মী বলেন, ‘এখন কারেন্ট যায় দিনে ৫ থেকে ৭ বার। এরজন্য আমাদের কাজে সমস্যা হচ্ছে। এই যে এখন কারেন্ট চলে গেছে। কাজ করতে পারছি না।’
একটি পোশাক কারখানার এক পুরুষকর্মী বলেন, ‘জেনারেটর বারবার চালু করা লাগে। বিদ্যুৎটা সময়মতো না পাওয়ার কারণে উৎপাদনা আমরা সময়মতো করতে পারতেছি না।’
গাজীপুরে কারখানাগুলোতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমেছে উৎপাদন। জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, সরবরাহ ঘাটতির কারণে এলাকাটিতে গড়ে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, দিনে গড়ে ৬ থেকে ৭ বার লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সংকটের কারণে চালানো যাচ্ছে না জেনারেটর।
এ বিষয়ে ইয়ন নিট কম্পোজিট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ হাসান বলেন, ‘আমরা যদি সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারি সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের বেতন–বোনাস দেওয়া জন্য মুশকিল হয়ে যাবে। এছাড়া আমাদের দেশ থেকে আমরা বায়ার হারাব।’
বিজিএমইএর সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি খাতে সংকটের কারণে পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন খাতে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। বায়ার সেই তুলনায় দাম দিচ্ছে না। আমরা যদি চাই কারখানা চলবে, তাহলে অবশ্যই শিল্পে জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে।’
চ্যালেঞ্জের মুখে নারায়ণগঞ্জের নিট ও রপ্তানিমুখী শিল্প। জ্বালানি সংকটে মালামাল আনা-নেওয়া ও সময়মতো পণ্য সরবরাহে বিপাকে পড়েছেন মালিকপক্ষ। বড় ধরনের ধস নামার শঙ্কায় সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ তাদের।
একটি কারখানার কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। পাশপাশি আমরা ঠিকমতো ডিজেল পাচ্ছি না। আমরা মালগুলো যে ডেলিভারি দেব সেটা আমরা পাচ্ছি না’
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেন, ‘এখন থেকে আমাদেরকে এটা নিশ্চিত করতে হবে জ্বালানির বিকল্প উৎস কী। আর স্থানীয়ভাবে যেন কেউ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেই ব্যাপারটাও সরকারের দেখার দরকার আছে।’
গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও নিটসহ সাড়ে ৭ হাজারের বেশি কারখানা রয়েছে।






































