
বাংলাদেশের ক্রিকেটে একসময় প্রবাদ ছিল—‘মাঠের পারফরম্যান্স যা-ই হোক, বিসিবির চেয়ার নড়বড়ে হয় না।’ কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই ধারণা পাল্টেছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর নাজমুল হাসান পাপনের ‘সংরক্ষিত’ সিংহাসন টলে যাওয়ার পর থেকেই বিসিবিতে পরিবর্তনের পর পরিবর্তন চলছেই।
এই প্রেক্ষাপটে এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রধানতম প্রশ্ন—আগামী জুন মাসের নির্বা চনের মাধ্বিযমে বিসিবির চেয়ারে কে বসছেন? বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল নাকি অন্য কেউ?
গত ১৪-১৫ বছর ধরে বিসিবি ছিল রাজনীতির একটি সমান্তরাল ক্ষেত্র। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের চেয়ারটি এতটাই সংরক্ষিত ছিল যে, সেখানে উঁকি দেওয়ার সাহস পাননি কেউ—এমনকি সে সময়ের ক্রীড়ামন্ত্রীরাও।
অভিযোগ ছিল, বোর্ড প্রধান হওয়ার যোগ্যতার চেয়ে ‘হাসিনার ঘনিষ্ঠ’ হওয়াটাই ছিল সেখানে বড় মাপকাঠি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের মুখে পাপন দেশ ছাড়লে বিসিবিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার শুরু হয়।
পাপন-পরবর্তী শূন্যতা পূরণে প্রথমে সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সরিয়ে জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সংক্ষিপ্ত মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ড পরিচালনার চাবি দেওয়া হয় বুলবুলের হাতেই। তবে সেই নির্বাচন শুরু থেকেই ছিল বিতর্কিত। সেই বিতর্কের জেরে অনেক ক্লাবকে ঘরোয়া ক্রিকেট বয়কট করতেও দেখা যায়।
নানা নাটকীয়তা ও বিতর্কের পর বর্তমান সরকার বিসিবির ওপর নজর দেয়। প্রথমে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে জানতে চাওয়া হয়—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সেই নির্বাচনে আসলে কী হয়েছিল? দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি রিপোর্টে জানায়, গত বছরের অক্টোবরের সেই ভোট ছিল অনিয়মের জালে ঘেরা।
এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বিসিবির পুরোনো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ও নির্বাচন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিলে তামিম ইকবাল নিজেই তার উত্তর দেন। তিনি জানান, জুন মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে বিসিবিতে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তামিমের এমন বক্তব্যের পর এটি নিশ্চিত যে জুন মাসে ফের নির্বাচন হচ্ছে বিসিবিতে। তবে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এখন আরেকটি প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বিসিবির পরবর্তী প্রধান?
বিশ্বস্ত কিছু সূত্র বলছে, যেভাবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সংক্ষিপ্ত মেয়াদে এসে পরবর্তীতে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আগামী জুন মাসের নির্বাচনে সভাপতি হতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল।
বিসিবি সূত্র মতে, সভাপতি হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পরিচালক হওয়া। নির্বাচিত ২৫ জন পরিচালকের মধ্য থেকেই ভোটের মাধ্যমে একজন সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পরিচালকরা মূলত ক্লাব, জেলা-বিভাগ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, সাবেক খেলোয়াড়, সার্ভিসেস ও বিশ্ববিদ্যালয় কোটা থেকে নির্বাচিত হয়ে আসেন।
তামিমের কিছু ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আগামী নির্বাচনে তামিম ইকবালসহ বর্তমান অ্যাডহক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই অংশগ্রহণ করবেন। সূত্রটি আরও জানায়, ঢাকা লিগের তালিকাভুক্ত একটি ক্লাব থেকে কাউন্সিলর মনোনীত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন সাবেক এই অধিনায়ক। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিচালক এবং সবশেষে পরিচালকদের সমর্থনে সভাপতির চেয়ারে বসবেন তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির সাবেক এক পরিচালক জানান, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তারা তামিমকেই সভাপতি হিসেবে চাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নতুন করে যারা আসবেন, তাদের বেশিরভাগই হবেন তামিমের ঘনিষ্ঠ।






































