
আহত বাঘ ক্ষেপে গেলে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, সেটি যেন হাড়ে হাড়ে টের পেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট কিটসে নিজেদের সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাট ওয়ানডেতে ধবল ধোলাই হতে হয়েছে সফরকারীদের। সেই গ্লানি নিয়েই সেন্ট ভিনসেন্টে পা দেয় ‘আহত’ টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজ হারের রাগ-ক্ষোভ সব কিছুই যেন টি-টোয়েন্টি সিরিজে উগড়ে দিয়েছেন তারা। তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। ২৭ রানের এই জয়ে কেবল সিরিজই নিশ্চিত হয়নি, বাংলাদেশ গড়েছে ইতিহাসও। ক্যারিবীয়দের আঙিনায় প্রথমবারে মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে। তাতে করে পঞ্চমবারের মতো বিদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।
বুধবার অর্নোস ভেলে স্টেডিয়ামে আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। তবু প্রথম ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটার সৌম্য সরকার কিছু রান করে দলের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু আজ সময় নিয়ে ব্যাটিং করে ১১ রান তুলে কাটা পড়েন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ, জাকের আলী অনিক কিছুটা রান করেছেন। তবে আসল কাজটা করেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। এক বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা শামীম প্রথম ম্যাচে ২৭ রানের ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস খেলেছিলেন। আজকেও যেন সেটারই ফটোকপি হলো। ১৭ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে ১২৯ রানে নেওয়ার পুরো কৃতিত্ব তারই।
আগের ম্যাচে ম্যাচসেরা হতে পারেননি শামীম। তবে আগের ম্যাচের মতো আজ বোলাররা দারুণ বল করলেও তার কাছ থেকে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি কেড়ে নিতে পারেননি। ১৭ বলে ৩৫ রানের ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শামীম। পুরস্কার হাতে নিয়ে ড্রেসিংরুমেও ঢোকেননি। ফোন বের করে স্ত্রীকেই সবার আগে কল দিয়েছেন। নিজের খুশিটা ছড়িয়ে দেন প্রিয় মানুষটার মাঝেও। এক বছর পর জাতীয় দলে ফিরে পর পর দুই ম্যাচে এমন ইনিংস খেলা শামীমের কাছে বিশেষ কিছুই। যদিও বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজি জেতানোর পরও পা মাটিতেই রাখছেন শামীম। খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন।
কিংসটাউনের আর্নোস ভেলে বাংলাদেশের জন্য এমনিতেই পয়মন্ত। এই মাঠে এর আগে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ। নেপাল ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতলেও হেরে যায় আফগানিস্তানের কাছে। জয়ের রেকর্ডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নামে তারা। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে টানা দুই ম্যাচ জিতে ব্যবধানটা এখন দাঁড়িয়েছে ৪-১। আগামী ১৯ তারিখে সিরিজের শেষ ম্যাচটি জিতলে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশের পাশাপাশি ব্যবধানটাও বাড়ানো সম্ভব হবে।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এটি দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল। যদিও সেটি ক্যারিবীয়দের মাটিতে ছিল না। ফলে এবারের সিরিজ জয়টিই মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম।
ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল। প্রতিটি ক্রিকেটার কোন না কোন ভাবে প্রভাব ফেলেছেন। অধিনায়ক লিটন দাস ফর্মে নেই। আগের ম্যাচে শূন্য রান করা লিটন আজকে করেছেন ৩ রান। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও অধিনায়ক হিসেবে নিজের কাজটা ঠিকঠাকমতো করতে পেরেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেব প্রতিটি ম্যাচেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি বলেই ছিলেন সরব। পারফরম্যান্স দিয়ে শামীম-তাসকিন-মেহেদী-রিশাদ-তানজিম সাকিবরা ম্যাচে প্রভাব যেমন রেখেছেন, তেমন নেতৃত্ব দিয়ে লিটনের প্রভাব ছিল অনেক।
লিটনের ফর্ম নিয়ে অবশ্য দুশ্চিন্তার কারণ আছে। টিম ম্যানেজমেন্টও বিষয়টি নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। ব্যাটিং কোচ সালাউদ্দিনও লিটনের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছেন। তবে লিটনকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী তিনি। তার বিশ্বাস দ্রুতই রানে ফিরবেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। শেষ টি-টোয়েন্টিতে লিটন রান করলে সেটি হবে এই সিরিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এখন সেই অপেক্ষাতে গোটা দেশ!







































