
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বেড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শতবর্ষের গৌরবময় ইতিহাস ধারণ করে আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদে। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তখন থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ২৯৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং ৬ জন শিক্ষক আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে মনোরম সবুজ পরিবেশ। বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফলদ ও ছায়াদানকারী গাছপালায় সজ্জিত ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। অভিভাবকদের জন্য রয়েছে আলাদা বসার ব্যবস্থা (শেড ঘর), যা বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। শিশুদের শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে রয়েছে দোলনা, স্লিপার, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নিতে পারছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাফিউল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিকভাবে গড়ে তোলা।” সহকারী শিক্ষকরা জানান, “বিদ্যালয়ের উন্নত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করছে এবং তাদের শেখার আগ্রহ বাড়াচ্ছে। অভিভাবকদের ভাষ্য, “এ বিদ্যালয় আমাদের সন্তানের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরাও তাদের অনুভূতি জানিয়ে বলে, “আমরা আমাদের স্কুলকে ভালোবাসি। এখানে পড়াশোনা ও খেলাধুলা দুটোই আনন্দের। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, “বেড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশগত দিক থেকে এটি একটি আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোই দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে। সব দিক বিবেচনায়, বেড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গ্রামীণ শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।




























