
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন মো. সালেহীন আকন্দ নামে এক যুবক। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর তাকে হয়রানি করতে মামলাটি করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) গাইবান্ধা শহরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালেহীন আকন্দ বলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার ছান্দিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. শরিফা জিন্নাত তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২১-এর ২৫(১) ধারায় আদালতে মামলা করেছেন। সালেহীন দাবি করেন, বাদিনীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া বিশ্বাস অর্জনের জন্য ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। মামলায় আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সালেহীন বলেন, তিনি কারও ফেসবুক আইডি হ্যাক করেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনো ছবি বা ভিডিও তৈরি বা প্রচারও করেননি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক চলাকালে উভয়ের মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি চ্যাট, অডিও, ভিডিও ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। এসব তথ্য তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সালেহীন আরও দাবি করেন, মামলায় রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সালেহীন আকন্দ বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মোছা. শরিফা জিন্নাতের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।




























