
সাআদ মাহমুদ।হালুয়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মী, সমর্থক ও তৃণমূলের মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে সাংগঠনিক মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা মোঃ বিল্লাল হোসেন মন্ডল। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। এই পথচলায় দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, শ্রম, মেধা, সামাজিক অবস্থান ও নিজেদের উপার্জিত অর্থ দলের জন্য ব্যয় করেছেন। দলের দুঃসময়ে তাঁরা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সংগঠনের পাশে থেকেছেন। তাই স্থানীয় নির্বাচনের আগে এসব ত্যাগী নেতাকর্মীর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এক বিবৃতিতে বিল্লাল হোসেন মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থক এখনও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত। তাঁদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদান উপেক্ষা করা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই হতাশ হবেন না, এর প্রভাব তৃণমূলের কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও পড়তে পারে। তিনি বলেন, নতুনদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে। অন্য রাজনৈতিক দল থেকে কেউ বিএনপিতে যোগ দিলে তাঁর যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকলে তাঁকেও মূল্যায়ন করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে শুধুমাত্র সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, ব্যক্তিগত পরিচিতি কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নতুন বা অপরীক্ষিত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে তৃণমূলে হতাশা তৈরি হতে পারে। ‘নতুনদের স্বাগত জানাতে হবে, তবে ত্যাগীদের ভুলে গিয়ে নয়’— উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন বিএনপির তৃণমূলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রার্থী ও নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অর্থ, প্রভাব কিংবা পরিচিতির পাশাপাশি দলের দুঃসময়ে কারা পাশে ছিলেন, কার কতটা ত্যাগ রয়েছে, এলাকার মানুষের পাশে কে ছিলেন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কার কতটা এবং দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রতি কার আনুগত্য রয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিল্লাল হোসেন মন্ডল আরও বলেন, একজন ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করা নয়; তাঁর সঙ্গে থাকা অসংখ্য কর্মী, সমর্থক ও পরিবারের আত্মত্যাগকেও সম্মান করা। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনপর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দলীয় সাংগঠনিক মূল্যায়নের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগ ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ৩০ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ জনপর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কমিটির সদস্যরা এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও জনসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করে নিয়মিতভাবে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দিতে পারেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কোনো জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা কমানোর জন্য নয়; বরং জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে করা যেতে পারে। ‘জনগণের আস্থা হারানোর আগে সতর্ক হওয়া জরুরি’ বিল্লাল হোসেন মন্ডল বলেন, রাজনীতিতে জনগণের আস্থা অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগে, কিন্তু সেই আস্থা নষ্ট হতে বেশি সময় লাগে না। তাই বিএনপির জন্য এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আস্থা ধরে রাখা এবং সাধারণ জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হলে এবং অপরীক্ষিত বা অযোগ্য ব্যক্তিরা অতিরিক্ত গুরুত্ব পেলে দীর্ঘদিনের কর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। এটি দলের সাংগঠনিক শক্তির জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনগণ ও কর্মী। কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলে এবং জনগণের আস্থা কমতে শুরু করলে বড় সংগঠনও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতেই আত্মসমালোচনা, সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। বিল্লাল হোসেন মন্ডল তাঁর বক্তব্যকে কোনো ব্যক্তি, নেতা বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দেওয়া পরামর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ত্যাগের মূল্যায়ন, যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার, নতুনদের যাচাই করে সুযোগ দেওয়া, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখার মাধ্যমে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলের নীতিনির্ধারকরা এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করলে তৃণমূলে নতুন আস্থা ও উদ্দীপনা তৈরি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিবৃতির শেষাংশে বিল্লাল হোসেন মন্ডল বলেন, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের স্বার্থে এখনই প্রয়োজন সঠিক মূল্যায়ন ও সঠিক সিদ্ধান্ত। যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, যৌবন, শ্রম, মেধা ও অর্থ দিয়ে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা উচিত। মোঃ বিল্লাল হোসেন মন্ডল প্রচার সম্পাদক কেন্দ্রীয় পরিষদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন





























