
সকেল হোসেন, স্টাফ রির্পোটার:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মা ও ছেলে মিলে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ছেলে সামিউল নাসিম সোনা (২৯) বিদেশে বসে পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রæতি দিয়ে হাতিয়ে নেন টাকা। অপর দিকে তার মা সামছুন নাহার দেশে থেকে পাওনাদারদের দেন হুমকি। তিনি আক্কেলপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত আছেন।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সামছুন নাহারের প্রবাসে অবস্থানরত ছেলে সামিউল নাসিম সোনা (২৯) এর বিরুদ্ধে যশোর জেলার শফিকুল ইসলামের ২৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৫’শ টাকা এবং ফরিদপুর জেলার রাকিব হোসেনের ২৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগীরা টাকা নিতে গেলে উল্টা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেন সামছুন নাহার।
খোঁজ নিয়ে, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের প্রবাসী ছেলে সামিউল নাসিম সোনার সাথে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ও রাকিব হোসেনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। চীন থেকে পণ্য দেওয়ার আশ^াস দিয়ে পণ্য না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। অভিযুক্ত সামিউল নাসিম সোনা ফেসবুকে পরিচয় দেয় নাসিম ওভারসেস গ্রæপের মালিক হিসেবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সামিউল নাসিম সোনার ব্যবসার ধরণ পণ্য সরবরাহকারী দেখিয়ে একক মালিকানায় নাছিম কর্পোরেশন নামীয় একটি ই-ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া রয়েছে।
শফিকুল ইসলামের লিখিত অভিযোগে দেখা যায়, এই বছরের ১৬ মে পণ্য ক্রয়ের জন্য অভিযুক্ত সোনা সিটি ব্যাংকের ঢাকা গুলশান শাখায় নাসিম কর্পোরেশন নামের হিসাব নম্বরে ২৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৫ শত টাকা জমা নেন। তারপরেই যোগাযোগের সকল মাধ্যম থেকে ভুক্তভোগী শফিকুলের সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
অপর দিকে আরেক ভুক্তভোগী রাকিব হোসেনের থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে দেখা যায়, তার সাথেও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক স্থাপন করে কয়েক দফায় টাকা নেন। পরে ভুক্তভোগীর ২৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার সাথেও সকল যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এর আগে বিগত ২০২২ সালে অভিযুক্ত সোনার মা স্যানিটারি ইন্সপেক্ট সামছুন নাহারের বিরুদ্ধে উপঢৌকন না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া সহ নানা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। অনেক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা পরিশোধ না করার গুঞ্জন রয়েছে অভিযুক্ত সোনার বাবা আবু নাছিম মোঃ ফরহাদের বিষয়ে। তবে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের নিজ গ্রাম জাফরপুরে রয়েছে তাদের অভিজাত্যে পরিপূর্ণ দুইতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি আমার পাওনা টাকার বিষয়ে সোনার বাড়িতে গিয়ে কোন প্রকার প্রতিকার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তার মা আগামী পনের দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন বলে ১০০ টাকার তিনটি ষ্ট্যাম্পে লিখিত এবং একটি চেক প্রদান করেছেন।
অপর ভুক্তভোগী রাকিব হোসেন বলেন, অভিযুক্ত সোনা ব্যবসার কথা বলে এবং কর্য নেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। টাকাগুলো নেওয়ার জন্য তার মায়ের কাছে গেলে উল্টা মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেয়। টাকার বিষয়ে থানায় লিখিত দেওয়া আছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সোনার মা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সামছুন নাহার কোন মন্তব্য করবেন না বলে জানান।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন হোসেন বলেন, তাদের বিষয়ে আগের ওসি থাকা কালীন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। সে দেশে না থাকায় তেমন অগ্রগতি করা যায়নি তারপরও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, তাদের মা-ছেলের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তারা টাকাগুলো ফেরত দিবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে





























